মাগুরার শালিখা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো একটি অভিযোগপত্রে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১১ জন শিক্ষকের নাম ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মহাপরিচালকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। তবে অভিযোগপত্রে যেসব শিক্ষকের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন দাবি করেছেন, তারা ওই অভিযোগে স্বাক্ষর করেননি এবং বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
উজগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের নাম ও স্বাক্ষর জাল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
এছাড়া কুমারকোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তানিয়া শারমিন ও মো. জাহিদুল ইসলাম, পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমান হোসেন ও সহকারী শিক্ষক মো. সবুজ আলী, এবং আসবা বরইচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো অভিযোগ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।
অভিযোগপত্রে থাকা স্বাক্ষরও তাদের নয় বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী হিসেবে নাম থাকা দরিশলই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খানমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এটি আমার বিভাগের বিষয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কিছু বলতে পারব না।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। যদি স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, শালিখায় যোগদানের পর থেকেই একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছে। তার ধারণা, একই মহল এ ঘটনার সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। এছাড়া অভিযোগপত্র পাঠানো খামের ওপর ব্যবহৃত প্রেরকের ফোন নম্বরের বিষয়ে শালিখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কুরিয়ারে পাঠানো অভিযোগপত্রের খামে প্রেরক হিসেবে ‘সাগর বিশ্বাস’ নাম এবং একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, নম্বরটি উপজেলার ধনেশ্বরগাতি গ্রামের স্বাধীন বিশ্বাসের নামে নিবন্ধিত। তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী সমীর কুমারের ভাগ্নে এবং প্রায়ই শিক্ষা অফিসে আসা-যাওয়া করতেন। এছাড়া তাকে অফিসের কম্পিউটারে কাজ করতেও দেখা যেত বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীন বিশ্বাস বা সমীর কুমারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষক মহলসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
জসীম উদ্দীন, শালিখা (মাগুরা) প্রতিনিধি:
