রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান, মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের ঘটনা অব্যাহত থাকলেও সচেতন মহলের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে এ সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

পারিবারিক অবহেলা, বেকারত্ব, মাদকের সহজলভ্যতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, মাদকাসক্ত বন্ধুদের সংস্পর্শ, পারিবারিক কলহ, মানসিক চাপ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভাব অনেক কিশোর-তরুণকে ধীরে ধীরে অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। প্রথমে ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে অনেকেই মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে।

বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর কিছু কিশোর-তরুণের উদ্দেশ্যহীন আড্ডা, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব আড্ডাকেই মাদক সেবন বা অপরাধ পরিকল্পনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে মনে করেন। তাই এলাকাভিত্তিক নজরদারি বৃদ্ধি, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং সন্দেহজনক যেকোনো কর্মকাণ্ড দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান।

বিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত মাদকবিরোধী আলোচনা, নৈতিক শিক্ষা, কাউন্সেলিং, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্কাউট, রোভার, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।
অভিভাবকদেরও আরও দায়িত্বশীল হওয়ার,সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা, নিয়মিত পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের খোঁজ রাখা, বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নজরদারি রাখার ওপর গুরুত্বারোপ রাখা, সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করাও অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলে অবরোধ ও অনৈতিক কার্যকর্ম ও মাদক মুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব। 
ধর্মীয় মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে যুব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়া তাহলে সমাজে মাদকমুক্ত করা সম্ভব।

যুবসমাজকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রম, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার এবং অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে তাহলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব। 
মাদক ও কিশোর গ্যাং শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি একটি সামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক সংকট। তাই এ সংকট মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক উদ্যোগের বিকল্প নেই।
একটি মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা, নৈতিক শিক্ষা, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ, সুস্থ বিনোদন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী প্রজন্মকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে একটি নিরাপদ, সুন্দর, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের তথ্য তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করেন তারা। তবে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণে অনেক সাংবাদিককে জীবননাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখে।

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ কোনো অপরাধ নয়। বরং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতির ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। 

আবু জাফর নিজস্ব প্রতিবেদকঃ