সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধনের অভিযোগ,বায়েক ইউপি ঘিরে তোলপাড়

ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধনের অভিযোগ,বায়েক ইউপি ঘিরে তোলপাড়

ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধনের অভিযোগ,বায়েক ইউপি ঘিরে তোলপাড়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভারতের এক নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ওই জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে। এমনকি পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংগ্রহেরও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এই ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই ভারতের এক নাগরিক বাংলাদেশি হিসেবে জন্মনিবন্ধন পেয়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সজল চন্দ্র সরকার।
 

অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পশ্চিম জেলার শিবনগর এলাকার কৃষ্ণকিশোরনগরের এক বাসিন্দা ১১ এপ্রিল  ২০২৩ সালে বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন গ্রহণ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘শমীর চন্দ্র সরকার’ নামে জন্মনিবন্ধন করলেও জন্মনিবন্ধনে তাঁর পিতা-মাতার পরিচয় আগের মতোই রাখা হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে জন্মনিবন্ধনটি করা হয়েছে।

তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো প্রামাণ্য দলিল বা সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। এদিকে গোপন সূত্রের দাবি, গত ২৫ জুলাই ওই ভারতীয় নাগরিক পাসপোর্ট নিয়ে কুমিল্লার বিবির বাজার ইমিগ্রেশন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে এসেছিলেন।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে তিনি এনআইডি সংগ্রহ না করেই আবার ভারতে ফিরে যান বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে একজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন পেলেন? জন্মনিবন্ধনের সময় তাঁর পরিচয়, নাগরিকত্ব, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিষয়টি নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় অভিযোগের তীর বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেনের দিকেও রয়েছে। তিনি কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই অভিযোগে ইমেল সরকার পিতা কাজল সরকার নামে যে ব্যক্তি তাকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত  করে প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছেন ২৯/০৩/২০২৬ তারিখে কিন্তু জন্ম নিবন্ধন সনদটি বাতিল করেন নাই উক্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো বিল্লাল হোসেন ।  অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, জন্মনিবন্ধনটি কীভাবে ইস্যু করা হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না,তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা প্রয়োজন।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো  ছামিউল ইসলাম জানান,আমরা এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তে রয়েছে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রিপোর্ট পাবো। প্রকৃত অর্থে যদি এমন ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয়, অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে এবং জন্মনিবন্ধনটি আইনানুগভাবে ইস্যু করা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে কোনো অনিয়ম ছিল।ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি স্থানীয়দের।

সংযুক্ত :একাধিক ছবি 
ভারতীয় পিতা/মাতা ও ইমেল সরকার এর সকল ডকুমেন্ট । 
ভারতীয় ব্যক্তির বাংলাদেশী জন্ম নিবন্ধন সনদ 

শাহ মুহাম্মদ ফুরকানুল ইসলাম