পরিবারের অমতে চার বছর আগে বিয়ে করেছিলেন রিনা আক্তার ও আল আমিন। সংসারও করছিলেন আলাদা বাসায়। সম্প্রতি অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। শনিবার বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের ইজ্জতপুর আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুজনের ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত রিনা আক্তার (৩০) শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি এলাকার সিদ্দিক মিয়ার মেয়ে। তিনি গারারণ এলাকায় অবস্থিত আরবেলা ফ্যাশন লিমিটেডে কাজ করতেন। নিহত অপর ব্যক্তি আল আমিন। তাঁর বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্বজনদের ভাষ্য, রিনা ও আল আমিন দুজনই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার বিকেলে ইজ্জতপুর আউটার সিগন্যাল এলাকায় রিনা ও আল আমিনকে রেললাইনের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। পরে সন্ধ্যার আগে তারা দুজন একসঙ্গে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। ট্রেনের ধাক্কায় তাদের মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দুই জোড়া জুতা ও রিনার পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।
রিনার স্বজনরা জানান, প্রায় চার বছর আগে পরিবারের অমতে প্রেমের সম্পর্কের জেরে আল আমিনকে বিয়ে করেন রিনা। পরিবার তাদের বিয়ে মেনে না নেওয়ায় তারা শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সম্প্রতি দুজনই অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে স্বজনদের দাবি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা স্বজনদের। তবে এর পক্ষে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জয়দেবপুর জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, কোন ট্রেনের নিচে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে।
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
