রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একই ইউনিয়নে ২ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল!

একই ইউনিয়নে ২ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল!

একই ইউনিয়নে ২ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল!

‎শিক্ষক সংকট, অনিয়মিত ক্লাস ও তদারকিহীনতায় পিরোজপুরের কদমতলায় চরম শিক্ষাবিপর্যয়

‎ পিরোজপুর প্রতিনিধি :

‎পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক (এসএসসি), দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় নজিরবিহীন ও চরম শিক্ষাবিপর্যয় ঘটেছে। ইউনিয়নের দুটি প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ভোরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া ২১ জন (স্কুলের ৮ জন ও মাদ্রাসার ১৩ জন) পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ২৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য (০%) শতাংশে।

‎​বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত অফিসিয়াল ফলাফল শিট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পিরোজপুর কেন্দ্র (৪০১)-এর অধীন পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (কোড: ১০২৯০৯) থেকে অংশগ্রহণকারী ২২০ ৪৮২, ২২০ ৪৮৩, ২২০ ৪৮৪, ২২০ ৪৮৫, ২২০ ৪৮৬, ২২০ ৪৮৭, ২২০ ৪৮৮ এবং ৮১২০০৭ রোল নম্বরের মোট ৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য (F গ্রেড) হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় ভোরা দাখিল মাদ্রাসা থেকে সাধারণ বিভাগে অংশ নেওয়া ১৩ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। উভয় প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মূলত ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
‎​প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট ও তদারকির অভাব

‎ পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাসলিমা আক্তার জানান, ২০২৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি, বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান ও কৃষি বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে কোনো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ছিলেন না। একপর্যায়ে মাত্র ৩ জন শিক্ষক (২ জন ধর্মের ও ১ জন সামাজিক বিজ্ঞানের) নিয়ে বিদ্যালয় চালাতে হয়েছে। পরবর্তীতে এনটিআরসিএ ও অন্যান্য মাধ্যমে শিক্ষকের সংখ্যা বেড়ে ৭ জন হলেও, দীর্ঘদিন মূল বিষয়ের শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত না আসা ফলাফলের ওপর মূল প্রভাব ফেলেছে।

‎​তবে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক শিথিলতা ও তদারকির তীব্র অভাবকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী স্বাধীন সাহাসহ কয়েকজন জানায়, “স্কুলে এতদিন ঠিকমতো স্যাররা ছিলেন না। অংক ও ইংরেজির ক্লাস করানোর মতো শিক্ষক ছিল না। ক্লাসও নিয়মিত হতো না, বরং স্যাররা না থাকায় অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হতো।”

‎​ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবক বাসুদেব সাহা বলেন, “আমরা অভিভাবকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, ঘরে ৪-৫টি বিষয়ে প্রাইভেট পড়িয়েছি। কিন্তু স্কুলে ১০টা থেকে ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঠিকমতো ক্লাস হয়নি। অনেক সময় ১০টায় গিয়ে শিক্ষার্থী ১১টায় চলে এসেছে। শিক্ষকরা নিয়মিত না আসা এবং সঠিক তদারকি ও ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় কোনো জবাবদিহিতা ছিল না।”

‎​অন্যদিকে, ভোরা দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. জালাল সেখ, দেলোয়ার সেখ, মোঃ হান্নান খান, মোঃ সুলতান সেখ ও কামাল সেখ। তারা একে ‘চরম দায়িত্বহীনতা’ বলে আখ্যা দেন। তবে ভোরা দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, “অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের ব্যাচটি খারাপ ছিল। তবে সবাই ফেল করবে তা কল্পনা করিনি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আমরা ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের (রি-এক্সামিন) জন্য আবেদন করব।”
‎​উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসের বক্তব্য
‎​ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও চরম বিব্রতকর আখ্যা দিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, “দুটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে লিখিত জবাবদিহিতা ও কৈফিয়ত তলব করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
‎​অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক শোভন দাস জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পিরোজপুর জেলার ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের ৯,৮৪৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬,৯৬২ জন পাস করেছে। সার্বিক পাসের হার ৭০.৭২% এবং ৩৪৬ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে জেলাটি বরিশাল বোর্ডের মধ্যে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। তবে জেলার এই সার্বিক সাফল্য থাকলেও কদমতলা ইউনিয়নের ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফেল করার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশার। বর্তমানে বিদ্যালয়গুলোতে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিতকরণ, সান্ধ্যকালীন আড্ডা বন্ধ এবং কড়া মনিটরিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস যৌথভাবে কাজ করছে।