রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নথিতে ১২০, শ্রেণিকক্ষে মাত্র ৭!

নথিতে ১২০, শ্রেণিকক্ষে মাত্র ৭!

নথিতে ১২০, শ্রেণিকক্ষে মাত্র ৭!


‎​পিরোজপুর প্রতিনিধি :

‎কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২০ জন। তাঁদের পাঠদানের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে মিলল এক হতাশাজনক চিত্র। পুরো বিদ্যালয়ে উপস্থিত রয়েছেন মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী!

‎ পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এ বাস্তবতায় সৃষ্টি হয়েছে নানা গুঞ্জন ও বিতর্ক।
‎​মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির কক্ষ পুরোপুরি শিক্ষার্থীশূন্য। আর নবম ও দশম শ্রেণিতে ৩ জন করে মোট ৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। নথির ১২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ৭ জনের এই নগণ্য উপস্থিতি দেখে প্রশ্ন উঠেছে, বাকি ১১৩ জন শিক্ষার্থী বাস্তবে কোথায়?
‎​বিদ্যালয়ের এমন সার্বিক সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল এক অদ্ভুত অজুহাত দাঁড় করান। তিনি দাবি করেন, “শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।” শিক্ষকের এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
‎​এদিকে উপস্থিতির পাশাপাশি বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়েও দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, এ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র ১ জন। এর আগে ২০২৫ সালেও ৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১ জন কৃতকার্য হয়েছিলেন। অর্থাৎ, গত দুই বছরে এই বিদ্যালয় থেকে ১৯ জন পরীক্ষা দিয়ে পাসের মুখ দেখেছেন মাত্র ২ জন।
‎​অনুসন্ধানে জানা যায়, পরীক্ষায় ন্যূনতম ১০ থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী দেখানোর আইনি বাধ্যবাধকতা মেটাতে বড় ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার স্বীকার করেন, পাশের 'সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়'-এর নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় ফেল করা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে এনে এই বিদ্যালয় থেকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ানো হয়েছে।
‎​পাশাপাশি অবকাঠামোগত সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং পর্যাপ্ত ওয়াশরুম না থাকায় ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
‎​এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম জানান, অন্য বিদ্যালয়ের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষা দেওয়ানো এবং ধারাবাহিক চরম ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সাথে দেখছে। সার্বিক বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা ও তথ্য তলব করা হবে।
‎​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণের অজুহাত দিয়ে মূলত নিজেদের ব্যর্থতা, শিক্ষার নিম্নমান এবং নথিপত্রে ভুয়া শিক্ষার্থী বানিয়ে রাখার জালিয়াতি ঢাকার চেষ্টা করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।