এমডি রফিকুল। মালেয়শিয়া
মালয়েশিয়াজুড়ে অভিবাসন আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে হঠাৎ জোরালো অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। মাত্র দুই দিনের অভিযানে ৩ হাজার ৩০৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করে আটক করা হয়েছে ১ হাজার ৪৩ জনকে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ৪৬০—অভিযানে আটক বিদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
১০ ও ১১ আগস্ট দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকদের বসবাস বেশি এমন আবাসিক এলাকা ও সন্দেহভাজন স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবানের তথ্য অনুযায়ী, আটক বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩৬৯ জন পুরুষ এবং ৯১ জন নারী। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
বাংলাদেশিদের পর সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক—৩২৮ জন। এছাড়া মিয়ানমারের ১৮৬, ভারতের ৫৫ এবং নেপালের ২২ জন নাগরিকও অভিযানে আটক হয়েছেন। অন্যান্য দেশের আরও ১৪৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান
অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের নজরদারির ভিত্তিতে অভিযানগুলোর স্থান নির্ধারণ করা হয়। কিছু আবাসিক এলাকায় বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগের পর আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা হয়েছে।
অভিবাসন বিভাগের ভাষ্য, বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি ঠেকাতে দেশজুড়ে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নথিপত্রহীনদের জন্য দেশে ফেরার সুযোগ
অভিযানের পাশাপাশি নথিপত্রহীন বিদেশিদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। চলমান Migrant Repatriation Programme 2.0 - এর আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আত্মসমর্পণ করে জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বার্তা, অবৈধভাবে অবস্থান করে অভিযান বা আটকের অপেক্ষায় থাকার চেয়ে নির্ধারিত প্রত্যাবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরাই নিরাপদ পথ।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, পাস ও কর্মসংক্রান্ত অনুমতিপত্র সঙ্গে রাখার এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।