রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ চিকিৎসক, গায়ক-গীতিকার, লেখক, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক পল্লব কীর্তনিয়ার ৬২তম জন্মদিন

আজ চিকিৎসক, গায়ক-গীতিকার, লেখক, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক পল্লব কীর্তনিয়ার ৬২তম জন্মদিন

আজ চিকিৎসক, গায়ক-গীতিকার, লেখক, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক পল্লব কীর্তনিয়ার ৬২তম জন্মদিন

একজন মানুষ একই সঙ্গে চিকিৎসক, গায়ক-গীতিকার, লেখক, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক—এই বহুমাত্রিক পরিচয় খুব সহজে দেখা যায় না। পল্লব কীর্তনিয়া সেই বিরল সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি পেশায় চিকিৎসক হয়েও বাংলা গান, কবিতা, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।
দুই বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর গান, লেখা ও বহুমুখী সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড তাঁকে বিশেষভাবে পরিচিত ও সমাদৃত করেছে।

 

পল্লব কীর্তনিয়ার জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৪ আগস্ট। তাঁর শৈশব কেটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ইছামতী নদীর পাড়ের একটি গ্রামে। গ্রামীণ প্রকৃতি, নদী ও বাংলার লোকজ পরিবেশ তাঁর সৃষ্টিশীল মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি কাটিয়াহাট বিকেএপি ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনা করেন। ১৯৮১ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নের জন্য কলকাতার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৯৮৬ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

 

কিন্তু চিকিৎসাবিদ্যার পাশাপাশি তাঁর হৃদয়ে সবসময়ই ছিল গান ও সাহিত্যের প্রতি গভীর টান। তাই চিকিৎসক হওয়ার পরও তিনি নিয়মিত সংগীতচর্চা চালিয়ে যান।

 

রবীন্দ্রসংগীতে উচ্চশিক্ষা-
সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ তাঁকে নিয়ে যায় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
১৯৯৩ সালে তিনি রবীন্দ্রসংগীতে স্নাতক এবং ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
চিকিৎসাবিদ্যার মতো কঠিন পেশাগত শিক্ষার পাশাপাশি সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিজেকে সমৃদ্ধ করার এই যাত্রা তাঁর বহুমুখী প্রতিভারই পরিচয় বহন করে।

 

গান ও সুরসৃষ্টির জগতে-
১৯৯৪ সালে নিজের লেখা ও সুরে প্রকাশিত হয় পল্লব কীর্তনিয়ার প্রথম সংগীত অ্যালবাম ‘কোন্ ভাঙনের পথে’। এই অ্যালবামের মধ্য দিয়ে তাঁর সৃষ্টিশীল সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়।
পরবর্তীকালে তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে—
শাওন
ঘুমের পাতা
ধুলোখেলা
মুক্তবেণী
তাঁর গানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—কবিতা, অনুভূতি, প্রকৃতি, প্রেম ও জীবনের নানা অনুষঙ্গকে নিজস্ব সুর ও কথার ভঙ্গিতে তুলে ধরা।
লেখক পল্লব কীর্তনিয়া-

 

গানের পাশাপাশি তিনি একজন লেখক হিসেবেও নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংগীত ও জীবনবোধকে কেন্দ্র করে তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
গানের মাটি — ২০১২
পাতার পরিজন — ২০১৩
পাতার ক্যানভাস — ২০১৪
এই বইগুলোতে তাঁর সৃষ্টিশীল মনন, সংগীতবোধ এবং প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি গভীর অনুভবের পরিচয় পাওয়া যায়।
চলচ্চিত্রে বহুমুখী ভূমিকা-
পল্লব কীর্তনিয়ার সৃষ্টিশীলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র চলচ্চিত্র। তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়, সংগীত এবং পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন।
২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাসাসিন’ চলচ্চিত্রে তিনি দিবাকর চরিত্রে অভিনয় করেন। শতরূপা সান্যাল পরিচালিত এই নাট্যধর্মী চলচ্চিত্রের পটভূমিতে ছিল নকশাল আন্দোলনের সময় একদল যুবকের সংগ্রাম ও জীবনসংকট।
পরবর্তীকালে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হয়।
‘মেঘের কন্যা’ / Daughter of Clouds
২০১৩ সালে তাঁর পরিচালনায় নির্মিত হয় ‘Daughter of Clouds’, যার বাংলা নাম ‘মেঘের কন্যা’। চলচ্চিত্র নির্মাণে তাঁর এই পদক্ষেপ তাঁর বহুমুখী শিল্পীসত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে।

 

এছাড়াও ‘আততায়ী’, *‘মাস্টারমশাই’*সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখযোগ্য।
অভিনেতা হিসেবেও-
গান ও চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন পল্লব কীর্তনিয়া।
২০১৭ সালে নির্মিত ‘কমলা সুন্দরী নাচে রে’ চলচ্চিত্রে তিনি মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন। ফলে একজন চিকিৎসক থেকে গায়ক-গীতিকার, লেখক এবং চলচ্চিত্র অভিনেতা ও পরিচালক—তাঁর শিল্পীসত্তার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
একজন বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল মানুষ-
পল্লব কীর্তনিয়ার জীবন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন জগতের মেলবন্ধন—একদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞান, অন্যদিকে শিল্প ও সাহিত্য।

 

একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের শরীর ও রোগকে বোঝার চেষ্টা করেছেন; আর একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের মন, অনুভূতি, ভালোবাসা, বেদনা ও জীবনের সৌন্দর্যকে গান, কবিতা, সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
এই বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতাই তাঁকে সমসাময়িক বাংলা সংস্কৃতির অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে।

 

জন্মদিনে পল্লব কীর্তনিয়ার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করি। চিকিৎসা, সংগীত, সাহিত্য ও চলচ্চিত্র—সৃষ্টিশীলতার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক, নতুন নতুন সৃষ্টি দিয়ে তিনি বাংলা সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করুন—এই প্রত্যাশা।

শুভ ৬২তম জন্মদিন, পল্লব কীর্তনিয়া।
আপনার সৃষ্টির সুর ও শব্দ আরও বহু বছর মানুষের হৃদয়ে অনুরণিত হোক