রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব!

অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব!

অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব!

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

‎পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় দুই ভাইয়ের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আইনি লড়াইয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি কলেজের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন আদালত থেকে রায় পাওয়ার দাবিদার অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান টুলু। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ঝিলবাড়ী গ্রামে অবস্থিত ‘কবি নজরুল ইসলাম বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ’-এর অফিস কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের তালা ভেঙে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফেরেন।
‎​স্থানীয় ও সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, ২০০৪ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৫ সালে তৎকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ সৈয়দ শহিদুল হক জামাল প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। ২০১০ সালে এটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই অধ্যক্ষের পদ দখল করা নিয়ে দুই সহোদর—বড় ভাই কামরুজ্জামান ও ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলুর মধ্যে চরম বিরোধ শুরু হয়।
‎​ছোট ভাই আসাদুজ্জামান টুলু দাবি করেন, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বরত ছিলেন। অন্যদিকে বড় ভাই কামরুজ্জামানের স্নাতক ডিগ্রি না থাকায় প্রথমে কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দিলেও পরবর্তীতে একটি বিতর্কিত সনদের মাধ্যমে নিজেকে অধ্যক্ষ দাবি করেন। এ নিয়ে দুই ভাই পাল্টাপাল্টি মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়লে কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্যাম্পাসে তালা ঝুলছিল। সম্প্রতি আদালতের রায় নিজের পক্ষে এসেছে দাবি করে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কলেজটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন আসাদুজ্জামান।
‎​কলেজের ভূমিদাতা পরিবারের সদস্য শরীফ মো. মাসুদ পারভেজ জানান, এলাকায় শিক্ষার প্রসারে তাদের পরিবার জমি দান করলেও দুই ভাইয়ের ব্যক্তিগত বিরোধে বহু শিক্ষার্থীর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইনি সুরাহা হওয়ায় এখন তারা প্রতিষ্ঠানটি চালু করতে চান।
‎​তবে বড় ভাই কামরুজ্জামান ছোট ভাইয়ের তালা ভেঙে প্রবেশের বিষযে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য না করলেও দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কাগজপত্রে চালু রয়েছে এবং প্রতিবছর এখান থেকে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। আদালতের নতুন রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুনির্দিষ্ট উত্তর দেননি।
‎​এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত জানান, প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতি আদালত থেকে কেউ নতুন কোনো রায় পেয়েছেন কি না কিংবা তালা খোলার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে লিখিত জানানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।