শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কবি, গীতিকার, অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতা মারজুক রাসেলে'র শুভ জন্মদিন

আজ কবি, গীতিকার, অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতা মারজুক রাসেলে'র শুভ জন্মদিন

আজ কবি, গীতিকার, অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতা মারজুক রাসেলে'র শুভ জন্মদিন

বাংলাদেশের কবিতা, গান ও অভিনয়জগতের বহুমাত্রিক প্রতিভা মারজুক রাসেলকে জন্মদিনে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 
কবি, গীতিকার, অভিনেতা, লেখক ও নির্মাতা—বহু পরিচয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন মারজুক রাসেল। নিজস্ব জীবনবোধ, স্বতন্ত্র ভাষাভঙ্গি এবং অভিনয়ের আলাদা স্টাইল দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তৈরি করেছেন নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান।

 

১৯৭৩ সালের ১৫ আগস্ট গোপালগঞ্জে তাঁর জন্ম। বাবার চাকরির সূত্রে তাঁর শৈশব-কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে খুলনার দৌলতপুরে। সেখানেই তাঁর সাহিত্যচর্চার বীজ বপন হয়। কৈশোরেই তিনি ঢাকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে কবিতা পাঠাতে শুরু করেন। ১৯৯৩ সালে ‘দৈনিক বাংলার বাণী’তে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। এরপর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিয়মিত তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে।

 

কবি হিসেবে মারজুক রাসেল-
নব্বইয়ের দশকের বাংলা কবিতায় যে নতুন প্রজন্মের কণ্ঠগুলো আলাদা করে নজর কেড়েছিল, মারজুক রাসেল তাঁদের অন্যতম। তাঁর কবিতায় নগরজীবন, প্রেম, ব্যক্তিসত্তা, অভিজ্ঞতা, বিষণ্নতা ও জীবনকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে ফুটে ওঠে। তাঁর কবিতার চিত্রকল্পে নাটকীয়তা ও সিনেমাটিক আবহ, আর প্রেম ও বেদনার গীতলতা তাঁকে পাঠকদের কাছে জনপ্রিয় করেছে।

 

তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—চেনা জীবনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে একেবারে নিজস্ব ভাষায় প্রকাশ করা। ফলে তাঁর কবিতা তরুণ পাঠকদের মধ্যেও বিশেষ সাড়া তৈরি করেছে।
গীতিকার হিসেবে অনন্য পরিচয়-
কবিতার পাশাপাশি গীতিকার হিসেবেও মারজুক রাসেলের অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তাঁর লেখা গান কণ্ঠে তুলেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, আসিফ আকবর ও হাবীব ওয়াহিদ-সহ আরও অনেকে।

 


তাঁর গীতিকবিতায় প্রেম, জীবন, নাগরিক বাস্তবতা ও মানুষের অনুভূতি এক ভিন্ন মাত্রায় প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘদিন গান লেখার পর প্রায় সাত বছরের বিরতি শেষে ২০২৬ সালে তিনি আবার গীতিকার হিসেবে আলোচনায় ফেরেন। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর জন্য তাঁর লেখা ‘ব্যাচেলর গীতি’ প্রকাশিত হয়; গানটিতে কণ্ঠ দেন জোহান আলমগীর এবং সুর ও সংগীত পরিচালনা করেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির। ২০১৯ সালের পর এটিই ছিল তাঁর লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ গান।

 

অভিনয়ে ভিন্নধর্মী উপস্থিতি-
মারজুক রাসেলের অভিনয়জীবনও তাঁর সৃজনশীলতার আরেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ছবিয়াল’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জগতে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ফারুকীর বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ব্যাচেলর’ (২০০৪)-এ অভিনয় করে দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
এরপর অসংখ্য নাটক, টেলিছবি, চলচ্চিত্র, মিউজিক ভিডিও ও ওয়েবভিত্তিক কাজে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনয়ের বৈশিষ্ট্য হলো স্বতঃস্ফূর্ততা, সংলাপ বলার নিজস্ব ভঙ্গি এবং চরিত্রের মধ্যে খুব সহজে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ‘পাশা ভাই’ চরিত্র তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। চরিত্রটির সংলাপ, আচরণ ও অভিনয়ের ধরন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
২০২৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘৮৪০’ চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
বহুমাত্রিক সৃজনশীলতা-

 

মারজুক রাসেলের বিশেষত্ব হলো—তিনি নিজেকে কোনো একটি পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। কবিতা থেকে গান, গান থেকে অভিনয়, আবার অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি ও নির্মাণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখেছেন।
তাঁর সৃষ্টিশীলতার বড় শক্তি তাঁর নিজস্ব জীবনদর্শন ও অভিজ্ঞতা। তিনি যে বিষয়গুলো দেখেন, অনুভব করেন ও উপলব্ধি করেন, সেগুলোই তাঁর লেখায় ও শিল্পচর্চায় নানা রূপে ফিরে আসে। তাঁর নিজের কথাতেও সৃজনশীলতা এসেছে অভিজ্ঞতা, কল্পনা, পাঠ, দর্শন, শ্রবণ ও দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গ থেকে।

 

বাংলাদেশের সমকালীন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাই মারজুক রাসেল শুধু একজন অভিনেতা বা কবি নন—তিনি একটি স্বতন্ত্র সৃজনশীল স্বর।
জন্মদিনে প্রিয় শিল্পী মারজুক রাসেলের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।
তাঁর কলমে আরও অসংখ্য কবিতা ও গান জন্ম নিক, অভিনয়ে আরও নতুন চরিত্রে মুগ্ধ করুন দর্শকদের, আর তাঁর বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতা সমৃদ্ধ করুক বাংলা সংস্কৃতিকে।
শুভ জন্মদিন, মারজুক রাসেল। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, সৃষ্টিশীল থাকুন—দীর্ঘ হোক আপনার শিল্পীজীবন।