পাকিস্তানি পাঠান পিতা আরশাদ সামি খান ও ভারতীয় মাতা নওরীন খান-এর ঘরে জন্ম নেন এই সঙ্গীতমহাতারকা। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বড় হওয়া আদনান যুক্তরাজ্যের রাগবি স্কুল, লন্ডনের কিংস কলেজ এবং লিঙ্কনস ইন থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।
শৈশব থেকেই সঙ্গীত তাঁর প্রাণ—পাঁচ বছর বয়সে পিয়ানো বাজানো শুরু, নয় বছর বয়সে প্রথম সুর রচনা। ভারতে ছুটিতে এলে শিখেছেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার কাছে সন্তুর। তিনিই প্রথম শিল্পী, যিনি পিয়ানোতে সন্তুরের সুর তুলে ধরেন। মার্কিন গণমাধ্যম তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বের দ্রুততম কিবোর্ডবাদক হিসেবে।
২০০০ সালে আশা ভোঁসলের সঙ্গে তাঁর অ্যালবাম “কভি তো নজর মিলাও” ইন্ডিপপ জগতে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়, বিশেষত শিরোনাম গানটি আজও শ্রোতার হৃদয়ে স্থান দখল করে আছে।
পিতা আরশাদ সামি খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সাহসী অফিসার, ১৯৬৫ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধে অসীম বীরত্বের জন্য পেয়েছিলেন দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব “সিতারাই জুরাত”। পরে কূটনীতিক হিসেবে ১৪টি দেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাকিস্তানের তিন প্রেসিডেন্ট—আয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর এডিসি ছিলেন।
২০০১ সাল থেকে ভিজিটর ভিসায় ভারতে থাকা আদনানের ওজন ২০০৬ সালে একসময় পৌঁছেছিল ২৩০ কেজিতে! চিকিৎসকের কড়া সতর্কতার পর কঠোর ডায়েট ও ব্যায়ামে মাত্র ১৬ মাসে কমান ১৬৭ কেজি।
অবশেষে তিনি পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতকে বেছে নিলেন নিজের দেশ হিসেবে।
২০১৫ সালে ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করেন, যা ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।
আজ তিনি কেবল একজন সঙ্গীতশিল্পী নন, বরং সীমান্ত ও রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে শিল্প ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন হয়ে আছেন।