পাগল মন মনরে মন কেনো এত কথা বলে.., মন আমার দেহঘড়ি সন্ধান করি...’ ছেড়ে দে নৌকা মাঝি যাবো মদিনা.., - গান গেয়ে তিনি শিল্পী হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। আজীবন তিনি গান করে গেছেন মানুষ ও মাটির। বলছি প্রখ্যাত শিল্পী আবদুর রহমান বয়াতির কথা।
মাটি ও মানুষকে ভালোবেসে দেশ মাতৃকার গভীর মমতায় দেশের আশাহত মানুষকে উপজীব্য করেই বেশির ভাগ গান বেঁধেছেন আবদুর রহমান বয়াতি। স্বকীয় গায়কী ঢংয়ের মাধ্যমে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও অগণিত শ্রোতাকে মুগ্ধ করেছেন গুণী ওই শিল্পী।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডব্লিউ জর্জ বুশের আমন্ত্রণে একবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত জাঁকালো এক অনুষ্ঠানেও গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন তিনি।
গুণী এই শিল্পীর অসংখ্য জনপ্রিয় লোকগান, বাউলগান পরিবেশনা ছাড়াও তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে সংগীত জগতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। তিনি ১৯৫৬ সালে সংগীতকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। একক গানের বহু সংখ্যক অ্যালবামের পাশাপাশি তিনটি মিশ্র অ্যালবামেও গেয়েছেন তিনি।
১৯৩৯ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকার সূত্রাপুর থানার দয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন আবদুর রহমান বয়াতি। বাবা প্রয়াত তোতা মিয়া, মা মরিয়ম বেগম।
১৯৮২ সালে তিনি ‘আবদুর রহমান বয়াতি’ নামে বাউল দল গড়ে তোলেন। তার গানের গুরু ছিলেন কবি আলাউদ্দিন বয়াতি। তিনি দোতরা, খঞ্জনি, হারমোনিয়াম ও ভায়োলিন বাজাতেন চমৎকার।
তিনি বাউল গান নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশ চষে বেড়ানোর পাশাপাশি ভারত, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, কানাডা, চীন, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৪২টি দেশ ভ্রমণ করেন।
আবদুর রহমান বয়াতি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের বিশেষ গ্রেডের শিল্পী ছিলেন। ১৯৮৯ সালে হাফিজুদ্দিন পরিচালিত ‘অসতী’ নামে একটি ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন।
তিনি রাষ্ট্রীয় পদক, স্বদেশ ও সংস্কৃতি স্বর্ণ পদক, বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সি, জাগরিণী শিল্পী গোষ্ঠী (যুক্তরাষ্ট্র), চ্যানেল আই সম্মাননাসহ ব্যক্তিজীবনে বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক হিসেবে বহু সম্মাননা ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।
শিল্পকলায় বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৫ সালে তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
আব্দুর রহমান বয়াতী ২০১৩ সালের আজকের দিনে (১৯ আগস্ট) ৭৪ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।