ভোলা প্রতিনিধি.
ভোলার মনপুরায় ‘চ্যানেল ভোলা’ নামের একটি ফেসবুক পেজের সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি, হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ করেছেন মাকসুদ আলম নামে এক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভোলা সদরের খলিফাপট্টি এলাকার একটি পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মাকসুদ আলম।
লিখিত বক্তব্যে মাকসুদ আলম অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর মনপুরা উপজেলার ‘চ্যানেল ভোলা’র সাংবাদিক মেহেদী হাসান তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাতে থাকেন। পরবর্তীতে কৌশলে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন মেহেদী। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে তার ব্রিকস ফিল্ড থেকে নগদ টাকায় ১ হাজার ৫০০ ইট ক্রয় করেন তিনি।
মাকসুদ আলমের দাবি, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মেহেদী হাসান পুনরায় ১ হাজার ৫০০ ইট ক্রয় করেন। পরে পূর্বের ও নতুন কেনা ইটের টাকা পরিশোধ এবং আরও ১০ হাজার ইটের অর্ডার নিশ্চিত করার কথা বলে তাকে মনপুরার হাজিরহাট থেকে মোটরসাইকেলে করে দীঘিরপাড় এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে নাস্তা খেতে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছুক্ষণ পর ওই বাসায় এক নারী ও ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ না দিয়ে তাকে মারধর করেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ওই নারীর সঙ্গে তাকে জড়িয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ভুয়া নাটক সাজিয়ে মব সৃষ্টি করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মাকসুদ আলম আরও অভিযোগ করেন, তাকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। প্রাণভয়ে তার কাছে থাকা ইট বিক্রির নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা তিনি তাদের হাতে তুলে দেন। এরপরও আরও টাকা দাবি করা হলে বাধ্য হয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টাকা এনে দেন। সব মিলিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে পূর্বের স্থানে রেখে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেননি। তবে পরবর্তীতে ওই চক্র তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অজুহাতে রিপোর্ট করার ভয় দেখিয়ে এবং ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আবারও টাকা দাবি করতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাকসুদ আলম বলেন, এ ঘটনায় তিনি মনপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার অভিযোগ গ্রহণ করেননি বলে তিনি দাবি করেন।
মাকসুদ আলম ভোলার মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে মাকসুদ আলম অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সাংবাদিক মেহেদী হাসান ও তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে নেওয়া ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। কথিত ভিডিও ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হয়রানি ও অপপ্রচার থেকে তাকে সুরক্ষা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।