কিশোরগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন বারান্দায় বৈদ্যুতিক ফ্যান ঝুলতে দেখা গেলেও সেগুলো নিয়মিত চালু থাকে না—এমন অভিযোগ করেছেন আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী ও তাদের স্বজনরা। ফলে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বারান্দায় অপেক্ষা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।
আদালতে মামলা-মোকদ্দমার কাজে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ আসেন। কেউ আসেন শুনানির জন্য, কেউ আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতে, আবার কেউ মামলার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে। অনেক সময় এসব মানুষকে দীর্ঘক্ষণ আদালতের বারান্দায় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, বিশ্রামের সুযোগ ও কার্যকর বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
বিচারপ্রার্থীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—আদালতের কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েও সাধারণ মক্কেল ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কেন নিশ্চিত করা হচ্ছে না?
একজন বিচারপ্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মামলার প্রয়োজনে আদালতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। গরমে বারান্দায় বসে থাকা কষ্টকর। ফ্যান থাকলেও অনেক সময় তা চলে না। আমাদের জন্য একটু স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে উপকার হতো।”
আদালতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিচারপ্রার্থীরাই আদালতকেন্দ্রিক পুরো ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অংশ। তাদের অর্থ ও সময় ব্যয় করেই মামলা পরিচালনার সঙ্গে আইনজীবী, পেশকার, মুহুরি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। অথচ সেই বিচারপ্রার্থীদের বসা, অপেক্ষা করা ও স্বস্তিতে থাকার ন্যূনতম পরিবেশ নিশ্চিত করা অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত থাকে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, আদালত শুধু বিচার কার্যক্রম পরিচালনার স্থান নয়; এটি ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলগুলোর একটি। তাই আদালত প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি, কার্যকর ফ্যান ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আদালত প্রাঙ্গণের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।