গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্বামীর বটির কোপে গুরুতর আহত দুই সন্তানের জননী শ্রাবণী আক্তার (২৩)। মাথা ও হাতে শতাধিক সেলাই নিয়ে চিকিৎসাধীন এই নারীর স্বামী ও মামলার একমাত্র আসামি জমির উদ্দীন সরকার জনিকে (২৭) গ্রেফতারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন সবরিতলা এলাকায় এ অবরোধ করা হয়।
অবরোধে শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম, মা মোর্শেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা অংশ নেন। এ সময় তারা আসামি গ্রেফতার ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শ্রাবণীর পরিবারের অভিযোগ, নৃশংস হামলার ঘটনায় মামলা হলেও আসামি জনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে আসামির গ্রেফতারের দাবিতে সড়কে অবস্থান নেন তারা।
অবরোধের কারণে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েলসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আসামিকে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার কথা জানানো হলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন তারা। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে গত ৯ আগস্ট গভীর রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর এলাকায় শ্রাবণী আক্তারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
শ্রাবণীর স্বজনদের অভিযোগ, ওই রাতে যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন তার স্বামী জনি। শ্রাবণী এতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে ধারালো বটি দিয়ে শ্রাবণীর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রাবণীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, মাথা ও হাতে শতাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি। বর্তমানে সহায়-সম্বলহীন বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন শ্রাবণী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পলাশবাড়ী উপজেলার আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জমির উদ্দীন সরকার জনির সঙ্গে শ্রাবণীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন জনি। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে একাধিকবার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে আমরা একাধিকবার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দিয়েছি। তারপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সেদিন রাতে আমার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে বটি দিয়ে মাথা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও আসামির শাস্তি চাই।’
পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর শ্রাবণীকে মৃতপ্রায় অবস্থায় জনিই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার কথা বলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলায় জনি মিয়াকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল বলেন, ‘অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযুক্ত আসামি জনিকে গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।’