তিনি শুধু একজন ক্লাসিকাল নৃত্যশিল্পী নন—একই সঙ্গে শিক্ষক, প্রশিক্ষক, সংগঠক ও কোরিওগ্রাফার। বর্তমানে তিনি ‘নৃত্যচঞ্চল নৃত্য সংস্থা’র সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।
নৃত্যকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।
শিবলীর জন্ম ৪ সেপ্টেম্বর, ঢাকায়। তাঁর পিতা সলিমুল্লাহ মোহাম্মদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় এবং তাঁর বাবাকে হত্যা করে। অকালে বাবাহারা এই পরিবারকে অসহায় অবস্থায় দাঁড় করায়, মা কাপড় সেলাই করে সংসার চালাতেন। সেই কঠিন শৈশবেই শিবলী উপলব্ধি করেছিলেন সংগ্রাম, ক্ষুধা ও বেদনার নির্মম বাস্তবতা।
তাঁর ভাইদের মধ্যে একজন শামীম মোহাম্মদ এবং অন্যজন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সাদী মোহাম্মদ।
শিবলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিন্তু তাঁর জীবনের মূল ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে নৃত্য।
* প্রথমে ঢাকার ছায়ানট থেকে কার্তিক সিং, অজিত দে ও অনিতা দে-এর কাছে নৃত্যের প্রাথমিক পাঠ নেন।
* ভারত সরকারের বৃত্তি পেয়ে তিনি লক্ষ্ণৌ ভাটখণ্ডে সংগীত ইনস্টিটিউটে পূর্ণিমা পান্ডের কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
* পরে নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কাথক ড্যান্স-এ কিংবদন্তি বীরজু মহারাজের শিষ্য হয়ে উচ্চতর শিক্ষা নেন।
* আধুনিক নৃত্যকলায় দক্ষতা অর্জনের জন্য তিনি লন্ডন ব্যালে থিয়েটার স্কুলে এক বছর ধরে ব্যালে, ট্যাপ ও জাজ নৃত্যেও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
কর্মজীবন ও অবদান-
* দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রধান পুরুষ নৃত্যশিল্পী ছিলেন।
* ২০০৭ সাল থেকে সহধর্মিণী শামীম আরা নিপার সঙ্গে যৌথভাবে বিটিভিতে “তারানা অন টেলিভিশন” অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
* নৃত্যের সৌন্দর্য, ছন্দ ও শৈল্পিক ব্যঞ্জনাকে তিনি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি-
নৃত্যকলায় অসামান্য অবদানের জন্য শিবলী মোহাম্মদ অর্জন করেছেন-
ইউনেস্কো পুরস্কার
বাচসাস পুরস্কার
জর্জ হ্যারিসন পুরস্কার
এছাড়াও দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা তাঁর ঝুলিতে যোগ হয়েছে।
আজকের এই বিশেষ দিনে শহীদ পরিবারের সন্তান, নৃত্যশিল্পের প্রাণপুরুষ শিবলী মোহাম্মদকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
তাঁর শিল্পকর্ম ও আলোকিত জীবন আমাদের পথ দেখাক আগামী প্রজন্মকে।