আজ জন্মদিন এই অনন্য শিল্পীর, যার জীবনধারাই ছিল রবীন্দ্রসংগীত। রবীন্দ্রনাথের গানকে আপন করে নিয়ে তিনি শুধু নিজে শুদ্ধতার সুধায় সিক্ত হননি, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছেন এই অমৃতধারা।
১৯৬২ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্ম মিতা হকের। পরিবার থেকেই পেয়েছিলেন সাংস্কৃতিক আবহ। তাঁর চাচা ছিলেন দেশবরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রবীন্দ্রগবেষক ওয়াহিদুল হক। প্রথমে তাঁর কাছেই এবং পরবর্তীতে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খান ও শিক্ষাগুরু সনজিদা খাতুনের কাছ থেকে তিনি গান শিখতে শুরু করেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে বার্লিনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিশু উৎসবে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর সঙ্গীত-জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক পদচিহ্ন রচিত হয়।
১৯৭৭ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে নিয়মিত গান পরিবেশন করতে শুরু করেন এবং দ্রুতই হয়ে ওঠেন সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর ২৫টি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে, এর মধ্যে ১৪টি ভারত থেকে ও ১১টি বাংলাদেশ থেকে। তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘আমার মন মানে না’ প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে।
অর্জন ও স্বীকৃতি-
* ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক
* ২০২০ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক
অবদান-
* ‘সুরতীর্থ’ নামের সঙ্গীত প্রশিক্ষণ দল গঠন করে তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলেছেন।
* দীর্ঘদিন ছায়ানটের রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
* জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মিতা হক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নাট্যজন খালেদ খান-এর সঙ্গে। তাঁদের একমাত্র কন্যা ফারহিন খান জয়িতা।
শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় অবিচল থেকে তিনি সারাজীবন ছিলেন শিল্প-সংস্কৃতির ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘ পাঁচ বছর কিডনি রোগে ভুগলেও শেষ পর্যন্ত করোনার আঘাতে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন। ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি চিরবিদায় নেন।
আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি রবীন্দ্রসংগীতের এই সাধককে, যিনি তাঁর অম্লান কণ্ঠে চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা