আজ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের ৭০তম জন্মদিন।
বাংলা কথাসাহিত্যে এক অনন্য নাম ইমদাদুল হক মিলন। তিনি ১৯৫৫ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরের মেদিনীমণ্ডল গ্রামে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুরের লৌহজং থানার পয়সা গ্রামে। পিতা গিয়াসুদ্দিন খান, মাতা আনোয়ারা বেগম।
শিক্ষাজীবন শুরু করেন লৌহজং উপজেলার কাজীর পাগলা হাই স্কুল থেকে (মাধ্যমিক ১৯৭২)। উচ্চমাধ্যমিক (১৯৭৪) ও স্নাতক (সম্মান ১৯৭৯) সম্পন্ন করেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে।
কিশোর বাংলা পত্রিকায় শিশুতোষ গল্প লিখে সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ। ১৯৭৭ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সজনী’ গল্প তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
তিনি গল্প, উপন্যাস ও নাটক—তিন ধারাতেই সমান জনপ্রিয়। দুই বাংলায়ই পাঠকনন্দিত, বিশেষত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘নূরজাহান’ বিপুল আলোড়ন তোলে।
তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক।
বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: অধিবাস, পরাধীনতা, কালাকাল, বাঁকাজল, নিরন্নের কাল, পরবাস, কালোঘোড়া, মাটি ও মানুষের উপাখ্যান, পর, কেমন আছ সবুজপাতা, জীবনপুর প্রভৃতি।
নাট্যজগতে তিনি সমানভাবে আলোচিত। দেড়শতাধিক নাটকের মধ্যে—কোন কাননের ফুল, বারো রকম মানুষ, রূপনগর, যুবরাজ, কোথায় সেজন, আলতা, একজনা, নীলু, তোমাকেই, আঁচল, কোন গ্রামের মেয়ে, মেয়েটি এখন কোথায় যাবে ইত্যাদি নাটক দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
পুরস্কার ও সম্মাননা:
১৯৮৬: বিশ্ব জ্যোতিষ সমিতি পুরস্কার
১৯৯২: হুমায়ুন কাদির সাহিত্য পুরস্কার
১৯৯২: বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
১৯৯৪: বিজয় পদক
১৯৯৫: মনু থিয়েটার পদক
১৯৯৬: ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন পদক
২০০২: বাচসাস পুরস্কার
এস এম সুলতান পদক, জাপান রাইটার্স অ্যাওয়ার্ড, মাদার তেরেসা পদক, চিত্তরঞ্জন দাশ স্বর্ণপদক
ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার: আইআইপিএম-সুরমা চৌধুরী মেমোরিয়াল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড
২০০৬ সালে জাপান ফাউন্ডেশন আয়োজিত তাকেশি কায়েকো মেমোরিয়াল এশিয়ান রাইটারস লেকচার সিরিজে বাংলাভাষার একমাত্র লেখক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। জাপানের চারটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে তিনি বাংলাদেশের সাহিত্য ও নিজের লেখালেখি নিয়ে বক্তৃতা দেন—যা এশিয়ার লেখকদের জন্য এক বিরল সম্মান।
ইমদাদুল হক মিলন বিবাহিত, তিনি দুই সন্তানের জনক।
বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।
তাঁর ৭১তম জন্মদিনে রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা