স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানায় প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দূতাবাস চালুর প্রতিবাদে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বুধবারের (৯ সেপ্টেম্বর) এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ ইসরায়েলের সঙ্গে স্লোভেনিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশটিতে ইসরায়েলি দূতাবাস উদ্বোধনের দিনই এই বিক্ষোভ হয়। একই সময়ে স্লোভেনিয়ার জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশা ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
গত জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়া ইয়ানশার নীতি তার পূর্বসূরি রবার্ট গোলবের সরকারের অবস্থান থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন। গোলবের নেতৃত্বাধীন সরকার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।লুবলিয়ানায় দূতাবাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠান চলার সময় হোটেলটির পাশ দিয়ে মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘শান্তি ও ফিলিস্তিনের জন্য আমরা একসঙ্গে’ এবং ‘গণহত্যা আত্মরক্ষা নয়’।
বিক্ষোভকারী ৪৮ বছর বয়সী শিল্প ইতিহাসবিদ উরশকা ব্রেজনিক ইয়ানশা সরকারকে ‘গণহত্যায় সহযোগিতাকারী’ সরকার হিসেবে আখ্যা দেন। আরেক বিক্ষোভকারী মেলিনা সাহেরনিক এএফপিকে বলেন, এই সিদ্ধান্তে স্লোভেনিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জুনে দৈনিক ডেলো পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ স্লোভেনীয় ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করেন। বিপরীতে মাত্র ১৪ শতাংশ এতে সমর্থন জানান।
স্লোভেনীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক আন্দ্রাজ জোরকো বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন দেশের মানুষের প্রচলিত মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রায় ২০ লাখ মানুষের দেশটির অধিকাংশ মানুষ ইসরায়েলের বিরোধী অথবা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোলবের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ফ্রিডম মুভমেন্ট ও লেফট পার্টি বুধবার পার্লামেন্টে ইয়ানশাকে অভিশংসনের প্রস্তাব দিয়েছে। ইসরায়েলের স্বার্থকে একতরফাভাবে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
