লোকগানের প্রাণপুরুষ, শিল্পী ও গবেষক কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য শুধু একজন গায়ক নন, ছিলেন এক আন্দোলনের নাম। শিলচরের ভট্টাচার্য বাড়ির ছেলেটির সহজাত প্রতিভা ছোটবেলা থেকেই সকলকে মুগ্ধ করেছিল। কাকা অনন্ত ভট্টাচার্যের অনুপ্রেরণায় বেড়ে ওঠা এই সঙ্গীতশিল্পী প্রথমে বাজাতেন তবলা, খোল, ঢোলক। কিন্তু লোকগানের টানে তিনি গড়ে তোলেন নিজের সুরের দুনিয়া।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য পড়ার সময়েই ১৯৯৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জনপ্রিয় লোকগানের দল ‘দোহার’। উত্তরবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গের পল্লীগান, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, জারি-সারি, বাউল থেকে শুরু করে লোকায়ত সুরকে তিনি পৌঁছে দেন শহরের মঞ্চে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তবু গানের মাটির গন্ধ, স্বকীয়তা আর সহজ-সরল কথার সৌন্দর্য ধরে রাখতে এক মুহূর্তও আপস করেননি।
প্রান্তিক মানুষের স্বরকে কেন্দ্র করে তৈরি তাঁর গান আজও সমান প্রাসঙ্গিক। গানের টানে আবালবৃদ্ধবনিতা আজও তাঁকে খুঁজে ফেরেন।
তিনি গর্ব করে বলতেন—“আমি সিলেটি।” লোকশিল্প সংগ্রাহক, গবেষক, পরিবেশক—সব ভূমিকাতেই কালিকাপ্রসাদ ছিলেন অসাধারণ।
৭ মার্চ ২০১৭ তাঁর অকাল প্রয়াণে স্তব্ধ হয়েছিল বাংলার লোকসংগীত ভুবন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠ, তাঁর সংগ্রহ আর তাঁর দল ‘দোহার’ আজও বহন করে চলেছে কালিকাপ্রসাদের স্বপ্ন।
আজ তাঁর জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য – হৃদমাঝারে অনন্তকাল।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা