মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি
মাগুরার শ্রীপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে এক নারী ও তার ছেলেকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে মা ও ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ওই নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার রাজধরপুর গ্রামে।
অভিযোগকারী মোছাঃ সুমী শিকদার (৫০), রাজধরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত টোকন শিকদারের স্ত্রী। এ ঘটনায় তিনি একই গ্রামের মোঃ শাহিন শিকদার (৩৫) ও মোছাঃ নবীরন নেছা (৫০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সুমী শিকদারের ক্ষয়ক্ষতি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা হাতে তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে শাহিন শিকদার লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে ডান বাহুতে আঘাত লেগে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে অভিযুক্তরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে জখম করেন বলে অভিযোগ করেন সুমী শিকদার। এ সময় নবীরন নেছা তার গলায় থাকা প্রায় ৬ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে সুমীর ছেলে জিসান শিকদার ঘটনাস্থলে এসে মাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকেও লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকালে তার ডান বাহুতে আঘাত লেগে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে অন্যরা রড ও লাঠি দিয়ে মা-ছেলেকে মারধর করে এবং জীবননাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় অজ্ঞাতনামা একটি ইজিবাইকে করে তারা মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অভিযোগে চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র পরে দাখিল করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী সুমী শিকদার তার ছেলে জিসান শিকদারের মাধ্যমে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। চিকিৎসা ও পারিবারিক আলোচনার কারণে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।