রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইরানের সঙ্গে কেন কথা বলছে পাকিস্তান

ইরানের সঙ্গে কেন কথা বলছে পাকিস্তান

ইরানের সঙ্গে কেন কথা বলছে পাকিস্তান

ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে কঠিন কূটনৈতিক চাপে পড়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরবের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। আবার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগও ধরে রাখতে চাইছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

এর আগে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রয়োজনে সক্রিয় করা হবে। তবে পাকিস্তানের সামরিক প্রধানের ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইসলামাবাদ একই সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর পথও খুঁজছে।

গত মঙ্গলবার হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের চারটি শহরে ৭৩ জন আহত হন এবং কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক অগ্রগতিও দ্রুত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ভোরে হুতি যোদ্ধারা লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোখায় পৌঁছে আশপাশের কয়েকটি দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়। শুক্রবারের মধ্যে তারা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে ইয়েমেনি সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেন। তারা বাব আল-মান্দাব প্রণালির উপকূলীয় এলাকা ধুবাব এবং প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ মায়ুন দ্বীপেও হুতি যোদ্ধাদের পৌঁছানোর কথা জানান। তবে হুতি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি।

হুতিদের এই অগ্রগতিতে জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের ওপরে উঠে যায়। কারণ, সৌদি আরবের তেল রপ্তানির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাব একসঙ্গে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বৃহস্পতিবার জানান, সৌদি আরব হুতিদের ওপর হামলা চালাতে পাকিস্তানের কাছে কোনো অনুরোধ জানিয়েছে; এমন খবরের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো আলোচনা হয়নি। একই সঙ্গে সৌদির কোনো সতর্কবার্তা পাকিস্তান ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে কি না, সে বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেননি।

তবে ইরানের মাধ্যমে হুতিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পাকিস্তান কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি অস্বীকৃতি জানাননি তিনি। বরং বলেন, বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য পাকিস্তান সংলাপ ও কূটনীতির পথ অব্যাহত রাখবে।

পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব জওহর সেলিমের মতে, ইসলামাবাদের এই ভাষা ইচ্ছাকৃত। তার মতে, কূটনীতিতে যা বলা হয় না, সেটিও অনেক সময় যা বলা হয় তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান একই সঙ্গে প্রতিরোধের সক্ষমতা দেখানো এবং উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। এপ্রিলের পর থেকে আসিম মুনির চারবার তেহরান সফর করেছেন। গত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মুনির ও আরাগচির মধ্যে তিন থেকে চারবার ফোনালাপ হয়ে থাকতে পারে বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন কূটনৈতিক যোগাযোগের সঙ্গে পরিচিত এক ইরানি সূত্র। তবে এসব যোগাযোগের বেশির ভাগই প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

ইয়েমেন ইস্যুতে পাকিস্তান এর আগেও একই ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল। ২০১৫ সালে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের সেনা, নৌবাহিনী ও যুদ্ধবিমান চাইলেও দেশটির পার্লামেন্ট ইয়েমেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন পাকিস্তান বলেছিল, নিরপেক্ষ অবস্থান দেশটিকে কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ইরান সরাসরি সৌদি আরবে হামলা চালানোর পরও পাকিস্তান সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। তবে এপ্রিল মাসে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়। ফলে সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির অর্থ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, নাকি প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সহায়তা দেওয়া—এ প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক- দুটিই কীভাবে একসঙ্গে বজায় রাখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান সৌদির হয়ে সরাসরি যুদ্ধে নামার বদলে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ বেশি পেতে পারে।

তবে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে ইসলামাবাদের ওপর সৌদি প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ বাড়তে পারে। ফলে হুতিদের অগ্রগতি শুধু ইয়েমেন বা সৌদি আরবের জন্য নয়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির জন্যও একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে।