অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তাঁর জীবনের এই বিশেষ দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও এক মধুর অধ্যায়—একই দিনে জন্মদিন তাঁর যমজ কন্যা টাপুর ও টুপুরেরও।
মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের পরিবারের সন্তান গোলাম ফরিদা ছন্দা বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হন এবং অভিনয়ের হাতেখড়ি আরও সমৃদ্ধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে *‘বর্ণচোর’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘ইডিপাস’, ‘ডলস হাউস’*সহ বিভিন্ন মঞ্চনাটকে অভিনয় করে দর্শকের নজর কাড়েন।
১৯৯৯ সালে ‘এভাবেই গল্প শুরু’ নাটকের মাধ্যমে তাঁর টেলিভিশন পর্দায় অভিষেক। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে তিনি নিজের একটি শক্তিশালী অভিনয়-পরিচয় তৈরি করেন। *‘কাজল কালো দিন’, ‘একজন আয়নাল লস্কর’, ‘মা’, ‘স্ত্রীর পত্র’, ‘নোঙ্গরখানা’, ‘কাঠগড়া’, ‘সার্কেল’, ‘পয়মন্ত’, ‘মন যে কারো কথা শোনে না’, ‘কাহিনি’*সহ বহু নাটকে তাঁর অভিনয় দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে মুস্তাফা মনোয়ার পরিচালিত ‘স্ত্রীর পত্র’ নাটকে তাঁর অভিনয় উল্লেখযোগ্য সাড়া তৈরি করে।
দীর্ঘদিন ছোটপর্দায় অভিনয়ের পর ২০১৮ সালে ‘অর্পিতা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে ছন্দার। শাহরিয়ার নাজিম জয় পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তিনি নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর *‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘নকশী কাঁথার জমিন’, ‘কোন এক কালে’, ‘দুঃসাহসী খোকা’, ‘ভয়াল’*সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাটকের পাশাপাশি ওয়েবফিল্ম ও ওয়েব সিরিজেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও নতুন অধ্যায় শুরু করেন ছন্দা। ‘জোছনা’ ছিল তাঁর নির্মিত প্রথম নাটক, যা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নির্মিত হয়। নাটকটির পরিচালনার পাশাপাশি নাম ভূমিকাতেও অভিনয় করেন তিনি। গল্প লিখেছিলেন শোয়েব চৌধুরী এবং চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছিলেন ফেরারী ফরহাদ।
ব্যক্তিজীবনে নির্মাতা ও অভিনেতা সতীর্থ রহমান রুবেলকে ২০০১ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন ছন্দা। তাঁদের যমজ কন্যা রোদেলা টাপুর ও মেঘলা টুপুর। দুই মেয়েও ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও মিডিয়ার পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। টাপুর ‘দেশান্তর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন, আর টুপুরও ওয়েবভিত্তিক বিভিন্ন কাজে অভিনয় করেছেন।
সবচেয়ে সুন্দর মিলটি হলো—মা ছন্দা ও তাঁর যমজ দুই মেয়ের জন্মদিন একই দিনে, ২২ সেপ্টেম্বর। তাই দিনটি তাঁদের পরিবারের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনন্য আনন্দের দিন।
আপনার অভিনয়ের নিজস্ব স্বর, মঞ্চের প্রতি ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিনের শিল্পসাধনা আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। আগামী দিনগুলোতেও আপনার সৃজনশীল পথচলা আরও বর্ণময়, প্রাণময় ও সাফল্যমণ্ডিত হোক—এই শুভকামনা রইল।
আপনার ও প্রিয় টাপুর-টুপুরের জন্মদিন হয়ে উঠুক ভালোবাসা, আনন্দ ও পারিবারিক উষ্ণতায় ভরা এক স্মরণীয় দিন।
শুভ জন্মদিন গোলাম ফরিদা ছন্দা।
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতার নতুন নতুন অধ্যায়ে আমাদের মুগ্ধ করে যান।
অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা