বাংলাদেশের নব্বই দশকের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, যিনি চলচ্চিত্রে শুধু ‘লিমা’ নামেই বেশি পরিচিত।
নব্বইয়ের দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকদের কাছে লিমা ছিলেন এক পরিচিত ও প্রিয় মুখ। চিত্রনায়ক সালমান শাহ, আলমগীর ও ওমর সানী-র মতো জনপ্রিয় তারকাদের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। মাত্র কয়েক বছরের চলচ্চিত্রজীবনেই প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন।
শৈশবেই অভিনয়ের শুরু
লিমার জন্ম কুমিল্লার দাউদকান্দিতে। তাঁর পারিবারিক নাম শামীমা আলি লিমা। তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। জন্ম কুমিল্লায় হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকায়।
অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে একেবারে শৈশবেই। তাঁর বাবা মোহর আলী ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং শিল্পমনস্ক মানুষ। ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসের সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রকৌশলী ‘কুট্টি ভাই’-এর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনিই ছোট্ট লিমার প্রতিভা দেখে তাঁকে বিটিভির জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘অঙ্কুর’-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেন।
মাত্র ৯ বছর বয়সে ‘অঙ্কুর’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লিমার মিডিয়ায় পথচলা শুরু। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ ও গানেও তিনি ধীরে ধীরে দক্ষতা অর্জন করেন।
বড় পর্দায় অভিষেক
শিশুশিল্পী হিসেবে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করার পর মাত্র ১৪ বছর বয়সে লিমা প্রথমবার নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় আসেন। কমল সরকার পরিচালিত ‘সুখের আগুন’ ছিল তাঁর প্রথম নায়িকা হিসেবে অভিনীত চলচ্চিত্র। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও লিমার অভিনয় নজর কাড়ে নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর। এরপর তাঁর চলচ্চিত্রজীবন দ্রুত এগিয়ে যায়।
‘প্রেমগীত’ ও জনপ্রিয়তার উত্থান
১৯৯৩ সালের ‘প্রেমগীত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে লিমা ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। নব্বইয়ের দশকের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে তিনি হয়ে ওঠেন পরিচিত ও ব্যস্ত নায়িকাদের একজন।
বিশেষ করে সালমান শাহের বিপরীতে ‘প্রেমযুদ্ধ’ ও ‘কন্যাদান’-এ অভিনয় তাঁকে আরও পরিচিত করে তোলে। সালমান শাহর স্বল্পস্থায়ী অথচ অত্যন্ত জনপ্রিয় চলচ্চিত্রজীবনে লিমাও ছিলেন তাঁর উল্লেখযোগ্য সহশিল্পীদের একজন।
প্রায় ২৫টি চলচ্চিত্র
মাত্র প্রায় ৮ বছরের অভিনয়জীবনে ২৫টির মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন লিমা। তাঁর চলচ্চিত্রজীবনে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন খ্যাতনামা পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু-র সঙ্গে। অল্প সময়ের ক্যারিয়ার হলেও নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
হঠাৎ চলচ্চিত্র থেকে দূরে
১৯৯৮ সালের শেষদিকে লিমা হঠাৎ করেই চলচ্চিত্রজগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। শারীরিক পরিবর্তন ও পারিবারিক নানা কারণ তাঁর চলচ্চিত্র থেকে সরে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি ছিলেন মিডিয়া ও লোকচক্ষুর অন্তরালে।
পরবর্তীকালে জানা যায়, তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করছিলেন এবং একসময় নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুরে বিউটি পার্লারের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর পরবর্তী জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
লিমার চলচ্চিত্রজীবন হয়তো ছিল স্বল্পস্থায়ী, কিন্তু নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের স্মৃতিতে তাঁর জায়গাটি আজও আলাদা। ‘প্রেমগীত’, ‘প্রেমযুদ্ধ’, ‘কন্যাদান’সহ তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো সেই সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের এক বিশেষ অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করে।
আজ তাঁর জন্মদিনে নব্বইয়ের দশকের সেই জনপ্রিয় নায়িকার প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।। শুভ জন্মদিন, লিমা।
জীবনের আগামী দিনগুলো হোক সুন্দর, শান্তিময় ও আনন্দময়। সুস্থ ও ভালো থাকুন—এই শুভকামনা রইল।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা