বিভু ভট্টাচার্য্য একজন ভারতীয় বাঙালী টেলিভিশন ও সিনেমা অভিনেতা ছিলেন।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমানে ঝরিয়া, ঝাড়খণ্ড, ভারত) ঝরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৯৮ সালে সন্দীপ রায় পরিচালিত টেলিসিরিজে জটায়ুর ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য তিনি সুখ্যাতি ও পরিচিতি লাভ করেন। এই ধারাবাহিক নির্মিত হয় সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদার বিভিন্ন গল্প অনুসারে।
শিশুশিল্পী হিসাবে মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা। প্রথাগত পড়াশুনা তাঁর হয়নি। যখন তাঁর বয়সী অন্যান্য ছেলেরা লেখাপড়ার জন্য স্কুলে যেত, তিনি সেসময়ে স্টুডিওতে অভিনয় করতে যেতেন। তিনি প্রথম অভিনয় করেন উত্তম কুমার অভিনীত “মর্য্যাদা” (১৯৫০) সিনেমায়। তাঁকে মাস্টার বিভু নামে ডাকা হত।
তৎকালীন বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি অন্যতম জনপ্রিয় শিশুশিল্পী ছিলেন এবং জহর গঙ্গোপাধ্যায় এবং ছবি বিশ্বাসের মতন শিল্পীদের সঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ পান। তিনি “প্রহ্লাদ(১৯৫২)” সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। তাঁর অন্যান্য সিনেমাগুলোর মধ্যে বিন্দুর ছেলে (১৯৫৩), রাণী রাসমণি (১৯৫৫), দুই বোন (১৯৫৫) উল্লেখযোগ্য।
তবে একটা সময় পরে বয়স বাড়ার কারণে তাঁর সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব আসা কমে গেল। শিশু শিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা সাগর সঙ্গমে (১৯৫৯)। তারপর তিনি প্রায় ৩৮ বছর কোন সিনেমায় অভিনয় করেন নি। এই সময়ে, তিনি নিজেকে টেলিভিশন নাটক ও থিয়েটারে ব্যস্ত রাখেন।
সময়টা ছিল ১৯৯৮ সাল, বিভু ভট্টাচার্য তার স্বপ্নের চরিত্র “জটায়ু” খুজে পান। জটায়ু চরিত্রে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩) এবং জটায়ু চরিত্রে তিনি কৈলাশে কেলেঙ্কারী (২০০৭), টিনটোরেটোর যীশু (২০০৭) এবং গোরস্থানে সাবধান (২০১০) এ অভিনয় করেন। তার কিংবদন্তিতুল্য অভিনয় জটায়ু চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলে। ফলে সবাই এমনকি সিনেমার পরিচালক সন্দ্বীপ রায়, তাকে এই চরিত্রের উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন।
মৃত্যুর আগেরদিন তিনি ফেলুদা সিনেমা “রয়েল বেঙ্গল রহস্য” সিনেমার ডাবিং শেষ করেন। আসলে এটা খুবই কঠিল ছিল যে কিংবদন্তি অভিনেতা “সন্তোষ দত্ত” –কে পরিবর্তন করে অন্য কোন অভিনেতা’র আগমণ ঘটানো, কিন্তু সময়ের সাথে বিভু ভট্টাচার্যও পরিচিত লাভ করেন।
২০১১ সালে কলকাতায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা