জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি অফিসের কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলার কথা। তবে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে অফিস সময়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং কয়েকটি কার্যালয় বন্ধ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েকটি সরকারি দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওয়া যায়নি, আবার কোথাও কার্যালয়ের দরজা বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানের সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা অজিৎ চন্দ্র দেবনাথকে পাওয়া যায়নি। এ সময় অফিস সহকারী শাহাদাত জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রয়েছেন। পরে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার জন্য শাহাদাত ফোনে কর্মকর্তাকে জানান। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেদক সেখানে ফিরে এসে অজিৎ চন্দ্র দেবনাথকে কার্যালয়ের বাইরে দেখতে পান। প্রতিবেদকের দাবি, তাকে দেখে কর্মকর্তা সেখান থেকে দূরে চলে যান। পরে অফিস সহকারী কার্যালয়টি বন্ধ করে দেন।
প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই কার্যালয় বন্ধ থাকার ভিডিও ধারণ করে তিনি চলে যান। পরে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থানকালে সেখানে অজিৎ চন্দ্র দেবনাথ আসেন। এ সময় অফিসের ভিডিও ধারণ করা নিয়ে তিনি প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান এবং কেন ভিডিও করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা চান বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে প্রতিবেদককে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পরে বিকেল ৩টার দিকে প্রতিবেদক আবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সেটি বন্ধ দেখতে পান।
এদিকে রাঙ্গাবালীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও পদে নিয়মিত কর্মকর্তার পরিবর্তে অতিরিক্ত দায়িত্বে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা কতটা স্বাভাবিকভাবে চলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অফিস সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত থাকতে হবে। কেউ অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিৎ চন্দ্র দেবনাথের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।
আসাদুজ্জামান কাজল
রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী
