স্বতন্ত্র কণ্ঠ, আবেগঘন পরিবেশনা এবং আধুনিক বাংলা গানে নিজস্ব গায়কির কারণে তিনি অল্প সময়েই শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন।
১৯৬৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া জুয়েলের শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথম শ্রেণিতে থাকতেই তিনি গান শেখা শুরু করেন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে প্রথম মঞ্চে গান করেন। পরবর্তী সময়ে সংগীত হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান সৃজনশীল পরিচয়।
সংগীতজীবন
জুয়েলের প্রথম একক অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয়—
এক বিকেলে — ১৯৯৪
আমার আছে অন্ধকার — ১৯৯৫
একটা মানুষ — ১৯৯৬
দেখা হবে না — ১৯৯৭
বেশি কিছু নয় — ১৯৯৮
বেদনা শুধুই বেদনা — ১৯৯৯
ফিরতি পথে — ২০০৩
দরজা খোলা বাড়ি — ২০০৯
এমন কেন হলো — ২০১৭
তাঁর কণ্ঠে *‘একটা মানুষ’, ‘সেদিনের এক বিকেলে’, ‘দেখা হবে না’, ‘চোখের ভেতর স্বপ্ন থাকে’, ‘সামনে তোমার চাঁদের পাহাড়’*সহ বহু গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পায়। তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনে ছিল ১০টি একক অ্যালবাম এবং ৫০টিরও বেশি যৌথ অ্যালবামে অংশগ্রহণের কৃতিত্ব।
টেলিভিশন ও অনুষ্ঠান নির্মাণ
শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, বাংলাদেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণেও জুয়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। তাঁর পরিকল্পনা ও নির্মাণে ‘বলতে চাই’, ‘বাংলাদেশের ঢোল’, ‘নতুন ঢাকের বাজনা’, ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ’, ‘ক্ষুদে গানরাজ’, ‘সেরা রাঁধুনি’, ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা’, ‘স্পেলিং বি’, ‘আলোয় ভুবন ভরা’ ও ‘মিউজিক ক্যাফে’-এর মতো অনুষ্ঠান তৈরি হয়েছে।
তিনি অনুষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি ইভেন্ট আয়োজন, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন প্রযোজনা এবং মিডিয়া ব্যবস্থাপনাতেও যুক্ত ছিলেন। ভ্রমণ ও আলোকচিত্রের প্রতিও তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ।
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বিদায়
২০১১ সালে জুয়েলের লিভার ক্যানসার শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে তা ফুসফুস ও হাড়ে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তিনি সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি। জীবনের শেষ সময়েও তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৫ বছর; তবে ৫৬তম জন্মদিনের ঠিক দুই মাস আগে তাঁর মৃত্যু হওয়ায় অনেক সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে ৫৬ বছর বয়সী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
জুয়েলের চলে যাওয়ায় বাংলা সংগীত ও টেলিভিশন অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাঁর গান, তাঁর কণ্ঠ এবং সৃষ্টিশীল কাজ আজও তাঁকে শ্রোতা ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় করে রেখেছে।
মানুষ চলে যায়, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি থেকে যায়।
হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলও তাঁর গান ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
জন্মদিনে প্রিয় শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। শুভ জন্মদিনে স্মরণ, জুয়েল।
আপনার আত্মার শান্তি কামনা করি।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা