রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য সুদর্শন ও ক্যারিশম্যাটিক নায়ক বিনোদ খান্নর জন্মদিন

আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য সুদর্শন ও ক্যারিশম্যাটিক নায়ক বিনোদ খান্নর জন্মদিন

আজ ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য সুদর্শন ও ক্যারিশম্যাটিক নায়ক বিনোদ খান্নর জন্মদিন

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু তারকা রয়েছেন, যাঁদের ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য, অভিনয়-প্রতিভা এবং পর্দার উপস্থিতি তাঁদের সময়কে ছাড়িয়ে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে। বিনোদ খান্না ছিলেন তেমনই এক বহুমাত্রিক শিল্পী। তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতাই নন—ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী এবং সফল রাজনীতিবিদ।


সত্তর ও আশির দশকে অমিতাভ বচ্চনের পাশাপাশি বলিউডের অন্যতম শীর্ষ নায়ক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন দর্শকের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। তাঁর সুঠাম ব্যক্তিত্ব, গভীর কণ্ঠস্বর, পর্দায় স্বাভাবিক অভিনয় এবং অসাধারণ ক্যারিশমা তাঁকে সমসাময়িক অভিনেতাদের মধ্যে স্বতন্ত্র অবস্থান এনে দেয়।

 

জন্ম ও শৈশব
বিনোদ খান্নার জন্ম ৬ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারে। তাঁর বাবা কৃষ্ণচন্দ্র খান্না ছিলেন বস্ত্র, রং ও রাসায়নিকের ব্যবসায়ী এবং মা কমলা খান্না ছিলেন গৃহিণী।


ভারত বিভাগের পর তাঁর পরিবার পেশোয়ার ছেড়ে বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) চলে আসে। তিনি চার ভাই-বোনের মধ্যে একজন; তাঁর ভাই প্রমোদ খান্না পরবর্তীতে চলচ্চিত্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
শৈশবে তিনি বোম্বের সেন্ট মেরিস স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে দিল্লির দিল্লি পাবলিক স্কুল, মথুরা রোড এবং নাসিকের কাছে বার্নস স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে বোম্বের সিডেনহাম কলেজ অব কমার্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।


স্কুলজীবনেই চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ তৈরি হয়। সোলভা সাল ও মুঘল-এ-আজম-এর মতো চলচ্চিত্র তাঁর কিশোর মনে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

চলচ্চিত্রে অভিষেক
১৯৬৮ সালে ‘মন কা মিত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিনোদ খান্নার বলিউডে অভিষেক। শুরুতে তিনি খলনায়ক ও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর সুদর্শন চেহারা, ব্যক্তিত্ব এবং অভিনয়ক্ষমতা খুব দ্রুত দর্শক ও নির্মাতাদের নজর কাড়ে।
এরপর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন একজন শীর্ষস্থানীয় নায়ক হিসেবে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে—
মেরে আপনে
অমর আকবর অ্যান্থনি
মুকাদ্দর কা সিকান্দর
ইনকার
কুরবানি
দয়াবান
চাঁদনী
হাত কি সাফাই
দয়াবান
ওয়ান্টেড

 

দাবাং সিরিজসহ আরও বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র।
বিশেষ করে ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘কুরবানি’, ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দর’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত করে।

 

খ্যাতির শীর্ষে থেকেও অভিনয় থেকে বিরতি
বিনোদ খান্নার জীবন ছিল অন্য অনেক চলচ্চিত্র তারকার তুলনায় একেবারেই আলাদা।
১৯৮২ সালে, যখন তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে এবং বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত নায়ক, তখন হঠাৎ করেই তিনি চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি আধ্যাত্মিক গুরু ওশো রজনীশের সান্নিধ্যে গিয়ে আধ্যাত্মিক জীবনযাপনে মনোনিবেশ করেন।
খ্যাতি, অর্থ ও সাফল্যের মধ্যগগনে থাকা একজন শীর্ষ অভিনেতার এভাবে চলচ্চিত্র ছেড়ে দেওয়া সে সময় বলিউডে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
প্রায় পাঁচ বছর পর, ১৯৮৭ সালে, তিনি আবার চলচ্চিত্রে ফিরে আসেন। প্রত্যাবর্তনের পরও তিনি সফলভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন এবং পরবর্তী সময়ে চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেন।

 

পুরস্কার ও সম্মাননা
বিনোদ খান্নার দীর্ঘ অভিনয়জীবন বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মানে সমৃদ্ধ।
ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা — হাত কি সাফাই চলচ্চিত্রের জন্য, ১৯৭৫
ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা — চলচ্চিত্রে দীর্ঘ ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, ১৯৯৯
দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার — ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা; তাঁকে এই সম্মান মরণোত্তরভাবে ২০১৭ সালে ঘোষণা করা হয়।


রাজনীতিতে বিনোদ খান্না
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বিনোদ খান্না সক্রিয় রাজনীতিতেও নিজের পরিচয় তৈরি করেন। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-তে যোগ দেন এবং পাঞ্জাবের গুরদাসপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪ ও ২০১৪ সালে গুরদাসপুর থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হন।
অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অর্থাৎ চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা থেকে শুরু করে দেশের সংসদ ও কেন্দ্রীয় সরকার—বিনোদ খান্নার কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যে ভরা।

 

প্রয়াণ
দীর্ঘ ও বর্ণময় কর্মজীবনের অবসান ঘটে ২৭ এপ্রিল ২০১৭ সালে।
মুম্বাইয়ের স্যার এইচ. এন. রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মূত্রাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র হারায় এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অভিনেতাকে—যাঁর সৌন্দর্য, অভিনয়, কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিত্ব কয়েক দশক ধরে দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।

 

শেষকথা
বিনোদ খান্না ছিলেন এমন একজন শিল্পী, যাঁর জীবনকে শুধুমাত্র ‘অভিনেতা’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না।
তিনি ছিলেন নায়ক, খলনায়ক, চরিত্রাভিনেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী এবং রাজনীতিবিদ—এক জীবনে এতগুলো ভিন্ন পরিচয়কে সাফল্যের সঙ্গে ধারণ করেছিলেন তিনি।
রুপালি পর্দায় তাঁর সেই ব্যক্তিত্বময় উপস্থিতি, মুগ্ধকর হাসি, গভীর কণ্ঠস্বর এবং অভিনয়ের নিজস্ব স্বকীয়তা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন।


৬ অক্টোবর তাঁর জন্মদিনে কিংবদন্তি অভিনেতা বিনোদ খান্নার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। 🌹
তিনি নেই, কিন্তু তাঁর অভিনয় ও স্মৃতি বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা