বাংলাদেশের নাট্যজগৎ আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রিয় মুখ ওয়ালিউল হক রুমিকে — যিনি ছিলেন একাধারে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং সাংবাদিক।
১৯৬৪ সালের ২৪ অক্টোবর বরগুনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, মাতা হামিদা হক। ছয় ভাইবোনের মধ্যে কনিষ্ঠ ছিলেন রুমি।
তার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৮৮ সালে থিয়েটার বেইলি রোডে মঞ্চনাটক ‘এখন ক্রীতদাস’ দিয়ে। একই বছর টেলিভিশনে অভিষেক ঘটে ‘কোন কাননের ফুল’ নাটকের মাধ্যমে — যা ছিল দর্শকদের কাছে তার অভিনয় প্রতিভার প্রথম ঝলক।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয় করেছেন অসংখ্য টেলিভিশন নাটকে। বিশেষ করে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত তার নাটকগুলো দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। সেই আঞ্চলিক ভাষার হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন দর্শকের আপনজন।
তার অভিনীত জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে
‘সাজেশন সেলিম’, ‘বোকাসোকা তিনজন’, ‘মেকাপ ম্যান’, ‘ঢাকা টু বরিশাল’, ‘ঢাকা মেট্রো লাভ’, ‘বাপ বেটা দৌড়ের উপর’, ‘আমেরিকান সাহেব’, ‘জার্নি বাই বাস’, ‘জমজ’ সিরিজ (৫–১০) প্রভৃতি।
২০০৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় অভিনয় করেন সিনেমা ‘দরিয়াপাড়ের দৌলতী’–তে।
অভিনয়ের পাশাপাশি রুমি যুক্ত ছিলেন দেশের শীর্ষ দৈনিক দৈনিক ইত্তেফাক–এর সঙ্গে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের এক পর্যায়ে তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। ভারতে ও দেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল, রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রতিভাবান অভিনেতা।
তিন দশকের অভিনয় জীবন, মঞ্চ থেকে পর্দা — সর্বত্রই তিনি ছিলেন অনবদ্য।
দর্শকের হৃদয়ে তিনি আজও বেঁচে আছেন তার সংলাপে, হাসিতে, অশ্রুতে।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি অভিনেতা সাংবাদিক ওয়ালিউল হক রুমি-কে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা