মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এক বহুমাত্রিক প্রতিভা মাহমুদ সাজ্জাদ -এর মৃত্যুবার্ষিকী

আজ বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এক বহুমাত্রিক প্রতিভা মাহমুদ সাজ্জাদ -এর মৃত্যুবার্ষিকী

আজ বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন, চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এক বহুমাত্রিক প্রতিভা মাহমুদ সাজ্জাদ -এর মৃত্যুবার্ষিকী

স্মরণ করছি সব্যসাচী শিল্পী, অভিনেতা, আবৃত্তিকার, সঙ্গীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ সাজ্জাদ–কে।


১৯৪৭ সালের ৩ মে, বৃহত্তর ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে জন্ম নেন তিনি। পিতা এম. আবদুল ওয়াদুদ, মাতা রাবেয়া খাতুন।সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ।
তাঁর ভাইদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কে. এম. খালিদ (সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী) ও ম. হামিদ (বিটিভির প্রযোজক ও এফডিসির সাবেক মহাপরিচালক) – দুজনেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।


নাসিরাবাদ কলেজে পড়ার সময় থেকেই নাটকে অভিনয় শুরু করেন মাহমুদ সাজ্জাদ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে অধ্যয়নরত অবস্থায় যুক্ত হন চলচ্চিত্র সংসদ ও নাট্যচক্র নাট্যদলের সঙ্গে।
স্বাধীনতার আগেই তিনি বেতার নাটকে কণ্ঠ দেন, মঞ্চে আলোড়ন তোলেন ‘লেট দেয়ার বি লাইট’, ‘স্পার্টাকাস’, ‘জনক’, ‘ভদ্রলোক’, ‘প্রতীক্ষার প্রহর’ ও ‘হায়েনা’-সহ বহু নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথমদিকের জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘সকাল সন্ধ্যা’ দিয়ে টিভি পর্দায় দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।


এরপর একে একে অভিনয় করেন বহু স্মরণীয় নাটকে— প্রতিটি চরিত্রে ছিল অভিনয়ের গভীরতা, সৌন্দর্য ও মানবিক আবেদন।
মাহমুদ সাজ্জাদ শুধু ছোট পর্দাতেই নয়, বড় পর্দাতেও ছিলেন সমান দক্ষ।
‘সংসার’, ‘মুক্তি’, ‘ঝড়ের পাখি’, ‘আপন পর’, ‘চোখের জলে’-সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে তিনি মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের।


সর্বশেষ তাকে দেখা যায় মিজানুর রহমান আরিয়ানের ওয়েব ফিল্ম ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’-তে, যেখানে তার অভিনয়ও প্রশংসিত হয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন প্রশিক্ষিত আবৃত্তিকার, সঙ্গীতশিল্পী, এবং বিজ্ঞাপনচিত্রের পরিচিত মুখ।


তার কণ্ঠ ও উপস্থিতি সব মাধ্যমে ছড়িয়েছে এক গভীর সংস্কৃতিচেতা মানুষের আবহ।
অভিনয়ের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে।


কর্মজীবনের কঠোরতা ও শিল্পচর্চার কোমলতা— দুইয়ের অসাধারণ ভারসাম্য ছিল তার জীবনে।
মাহমুদ সাজ্জাদ ছিলেন বিনয়ী, মিতভাষী ও রুচিশীল এক মানুষ।


তার জীবন ছিল নীরব অথচ দীপ্ত— শিল্প, নৈতিকতা ও সৌজন্যের এক জীবন্ত প্রতীক।
২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর, এই মহান শিল্পী পরলোকগমন করেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকার আজও অম্লান, অমর।

তিনি ছিলেন এক সৃষ্টিশীল আলোকবর্তিকা,
যিনি নিজ আলোয় আলোকিত করেছেন আমাদের সাংস্কৃতিক যাত্রাপথ।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ—
অভিনেতা, আবৃত্তিকার ও সংস্কৃতিপ্রাণ মানুষ মাহমুদ সাজ্জাদ।

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা