বাংলা চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায়। নায়ক, চরিত্রাভিনেতা, শিল্পী ও মানবিক মানুষ — প্রতিটি ভূমিকায় তিনি ছিলেন অনন্য।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও প্রথমে তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ তাঁর মনে হয়েছিল, “ওই রকম মহৎ মানুষের চরিত্রে অভিনয় করার যোগ্যতা আমার নেই।”
শেষ পর্যন্ত রাজি হলে তাঁর অভিনয় দেখে দেশবন্ধুর স্ত্রী বাসন্তীদেবী স্বয়ং অনিলবাবুর প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁকে।
রেডিয়ো ইন্টারভিউ থেকে শুরু এক কিংবদন্তি বন্ধুত্বের গল্প
১৯৫৭ সাল — অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর ঘোষকের পদে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায় ও এক তরুণ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
একশোরও বেশি প্রার্থীর মধ্যে প্রথম হন অনিল, দ্বিতীয় সৌমিত্র।
কিন্তু সিনেমার চাপে অনিলবাবু রেডিয়োর চাকরি গ্রহণ করলেন না — আর সেই চাকরিই পেলেন সৌমিত্র!
সেদিনের সেই দেখা-সাক্ষাৎই গড়ে তোলে আজীবনের এক অনন্য বন্ধুত্ব।
বন্ধুত্বের গল্প ও সহযাত্রা
চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সিনেমায় মন দিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায়।
সিনেমার পাশাপাশি শিল্পী সংসদের নেতৃত্ব, ক্রীড়াপ্রেম, ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি—সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
সৌমিত্র-অনিলের বন্ধুত্ব শুধুই ব্যক্তিগত ছিল না, পর্দাতেও তাঁরা একসঙ্গে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত।
স্মরণীয় চলচ্চিত্রসমূহ
‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘দেবী’, ‘মহানগর’, ‘পোস্টমাস্টার’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘অভিযান’, ‘আবির্ভাব’— প্রতিটি ছবিতে তাঁর অভিনয় ছিল সত্যি জীবন্ত ও অনুভবের গভীরতায় পূর্ণ।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন,
“সব ভুলে যেতে পারি, কিন্তু ‘পোস্টমাস্টার’-এর অনিলকে কী করে ভুলব?”
চমৎকার ছাত্র ছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায়। ইংরেজিতে দখল, ছবি আঁকার নেশা, ডায়েরি লেখার অভ্যাস—সব মিলিয়ে ছিলেন এক সত্যিকারের শিল্পমনস্ক মানুষ।
সৌমিত্রবাবু তাঁর লেখা বইয়ে উল্লেখ করেছেন —
“ভবিষ্যতে অনিলের ডায়েরি প্রকাশিত হলে শুধু তাঁর জীবনের গল্প নয়, আমাদের সময়ের অভিনয় ইতিহাসও ধরা পড়বে।”
আজ, বাংলা চলচ্চিত্রের এই গুণী অভিনেতার জন্মদিনে আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা