মো: সাজ্জাদ হোসেন মাগুরা জেলা প্রতিনিধি:
মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিৎপুরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাসিবুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিয়ে করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের এক তরুণী। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তরুণীর নাম স্বর্ণা বলে জানা গেছে। তিনি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর বিয়ে করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হাসিবুল ইসলাম শত্রুজিৎপুরের মোল্যাপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে। তাঁদের বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিয়ের বিষয়টি দুই মাস আগে ঘটেছে বলে দাবি করেছেন হাসিবুলের বাবা।
স্বর্ণা জানান, হাসিবুলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজের ভালো-মন্দ বোঝার মতো বয়স হয়েছে। নিজের ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাসিবুলকে বিয়ে করেছেন। তিনি হাসিবুলের সঙ্গে সংসার করতে চান।
হাসিবুলের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ছেলে ও মেয়ে দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁদের বিয়ের বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। পরে এলাকার মানুষের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, প্রায় দুই মাস আগে তাঁরা বিয়ে করেছেন। তাঁর ছেলে আগে কলেজে পড়াশোনা করত, তবে বর্তমানে বাড়িতে থাকে না।
তিনি বলেন, “ছেলে-মেয়ের বয়স হয়েছে। তারা যদি নিজেদের সিদ্ধান্তে বিয়ে করে থাকে, তাহলে দোষের কিছু দেখি না। আমি ছেলেকে এ কাজ করতে শিখিয়ে দিইনি। তারা আমাদের না জানিয়েই বিয়ে করেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া কিছু কাগজপত্র ও ভিডিও আমার কাছে রয়েছে।”
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে আইনগতভাবে তার সমাধান সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।অন্যদিকে, তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেয়েকে হাজির করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানেরও দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ছেলে ও মেয়ে বর্তমানে এলাকায় নেই। তাঁদের এলাকায় ফিরে আসতে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে আইনসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে হাসিবুল ইসলাম সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তাঁরা বর্তমানে অন্য কোথাও একসঙ্গে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে,
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তাঁদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।