বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রজগতের এক স্মরণীয় নাম সালমা আগা'র শুভ জন্মদিন

আজ ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রজগতের এক স্মরণীয় নাম সালমা আগা'র শুভ জন্মদিন

আজ ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রজগতের এক স্মরণীয় নাম সালমা আগা'র শুভ জন্মদিন

তিনি একাধারে গায়িকা, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী, যাঁর মায়াবী কণ্ঠ আশির দশকে অসংখ্য সংগীতপ্রেমীর হৃদয় জয় করেছিল। ভারতীয় ও পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং নিজের কণ্ঠে গান গেয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন এক স্বতন্ত্র পরিচয়। বিশেষ করে নিকাহ চলচ্চিত্রের গান তাঁকে আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে অমলিন করে রেখেছে।

 

জন্ম ও পারিবারিক ঐতিহ্য
সালমা আগা ১৯৫৬ সালের ২৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানের করাচির নাম বিভিন্ন জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বাবা লিয়াকত গুল আগা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং মা নাসরিন আগা ছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর মায়ের পারিবারিক শিকড়ও ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সংগীতের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।


সালমার পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বিখ্যাত কাপুর পরিবারের নাম। তাঁর মাতামহ যুগল কিশোর মেহরা ছিলেন রাজ কাপুরের আত্মীয়। তাঁর মাতামহী আনোয়ারি বেগম এবং মা নাসরিন আগাও চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে অভিনয় ও সংগীতের পরিবেশের সঙ্গে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই।

 

লন্ডনে বেড়ে ওঠা ও সংগীতের তালিম
শৈশবের একটি বড় অংশ সালমা আগা লন্ডনে কাটান। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। তিনি ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের তালিম নেন এবং নিজের কণ্ঠকে গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত অনুশীলন করেন।
তাঁর বোন সাবিনা আগার সঙ্গে মিলে তিনি সংগীতচর্চাও করেছেন। দুই বোনের সালমা অ্যান্ড সাবিনা সিং দ্য হিটস অব আব্বা ইন হিন্দি অ্যালবামটি তাঁদের সংগীতজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।


‘নিকাহ’—যে চলচ্চিত্র বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবন
১৯৮২ সালে পরিচালক বি. আর. চোপড়ার নিকাহ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রজগতে সালমা আগার বড় সাফল্যের সূচনা হয়। ছবিতে তিনি নীলুফার চরিত্রে অভিনয় করেন। শুধু অভিনয় নয়, নিজের কণ্ঠে গান গেয়েও দর্শক ও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন তিনি।
ছবিটির কালজয়ী গান—
“দিল কে আরমান আঁসুও মে বহ গয়ে” 
আজও হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় বিষাদময় গজলধর্মী গান হিসেবে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে আছে। গানটির আবেগঘন পরিবেশনা সালমা আগাকে এনে দেয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং ১৯৮৩ সালে তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা নারী নেপথ্য কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার অর্জন করেন।


নিকাহ ছবিতে অভিনয়ের জন্যও তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। একজন শিল্পী হিসেবে অভিনয় ও সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি ছিল এটি।
🎼 আরও কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ
নিকাহ-এর সাফল্যের পর সালমা আগা একাধিক হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় ও গান পরিবেশন করেন।
কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি (১৯৮৪)
সালমা (১৯৮৫)
উঁচে লগ (১৯৮৫)
জঙ্গল কি বেটি (১৯৮৭)
মহাবীরা (১৯৮৮)
পাঁচ ফৌলাদি (১৯৮৮)
পতি পত্নী অউর তাওয়াইফ (১৯৯০)
এই চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমে তিনি নিজের অভিনয় ও সংগীতের বহুমুখী প্রতিভা তুলে ধরেন। বিশেষ করে কসম পয়দা করনে ওয়ালে কি ছবির “কাম ক্লোজার” গানটিও শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

সালমা আগার কর্মজীবনের বিশেষ দিক হলো—তিনি ভারতীয় ও পাকিস্তানি চলচ্চিত্রজগতে কাজ করেছেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল গজলের কোমলতা, রোমান্টিক গানের আবেগ এবং আধুনিক সংগীতের বৈচিত্র্য। অভিনয়ের পাশাপাশি গায়িকা হিসেবেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
তাঁর সংগীতজীবন প্রমাণ করে, একজন শিল্পীর কণ্ঠ ও প্রতিভা ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে যেতে পারে।


ব্যক্তিগত জীবন ও পরবর্তী প্রজন্ম
সালমা আগার ব্যক্তিগত জীবনও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। পাকিস্তানি অভিনেতা জাভেদ শেখ এবং স্কোয়াশ খেলোয়াড় রহমত খানের সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে তিনি ব্যবসায়ী মাঞ্জার শাহকে বিয়ে করেন।


তাঁর মেয়ে জারা ‘সাশা’ আগাও অভিনয় ও সংগীতের জগতে কাজ করেছেন। এভাবেই তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও বিনোদনজগতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।


কেন আজও স্মরণীয় সালমা আগা?
সালমা আগার জনপ্রিয়তার মূল শক্তি তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ, আবেগপূর্ণ গায়কী এবং পর্দায় ব্যক্তিত্বময় উপস্থিতি। তাঁর গাওয়া গানগুলো শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের জনপ্রিয় সংগীত নয়; বরং বহু শ্রোতার স্মৃতি, ভালোবাসা ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।


সময়ের পরিবর্তন হয়েছে, সংগীতের ধরন বদলেছে, নতুন শিল্পীদের আবির্ভাব ঘটেছে—তবু “দিল কে আরমান আঁসুও মে বহ গয়ে” গানের আবেদন আজও ফুরিয়ে যায়নি। এটাই একজন প্রকৃত শিল্পীর স্থায়ী সাফল্য।


জন্মদিনের বিশেষ শুভেচ্ছা
জন্মদিনে কিংবদন্তিতুল্য সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সালমা আগার প্রতি রইল অগাধ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা। তাঁর জীবন সুস্বাস্থ্য, আনন্দ ও শান্তিতে ভরে উঠুক। তাঁর সুরেলা কণ্ঠে উপহার দেওয়া গানগুলো আগামী প্রজন্মের সংগীতপ্রেমীদের কাছেও বেঁচে থাকুক।
আপনার কণ্ঠের মায়া ও গানের আবেগ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকুক।


কিছু গান কখনো পুরোনো হয় না, কিছু কণ্ঠ কখনো বিস্মৃত হয় না—সালমা আগা তাঁদেরই একজন।

বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা