শাহ মোহাম্মদ ফুরকানুল ইসলাম।ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ের আগে চেম্বার ত্যাগ, রোগীদের ভোগান্তি এবং জনবলসংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের আঙুল উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালন ও তদারকির ভূমিকা নিয়েও।
নির্ধারিত সময়ের আগেই চিকিৎসকদের চলে যাওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের রোগী দেখার নির্ধারিত সময় থাকলেও দুপুর ১টার পর অনেক চিকিৎসককে তাঁদের চেম্বারে পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও রোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা পালন এবং হাসপাতালের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ শরিফুল ইসলাম সভাপতি কসবা পৌর বিএনপি বলেন কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর এমন অব্যবস্থাপনা কোনভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হয়তো রোগী ছিল না, তাই ডাক্তার চলে গেছে।
তবে রোগী না থাকার কারণে চিকিৎসকেরা নির্ধারিত কর্মঘণ্টার আগেই হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারেন কি না এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তদারকির ভূমিকা কী—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা যেন চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য না হন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন
তাই কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের উপস্থিতি, দায়িত্ব বণ্টন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র প্রকাশের দাবি জানানো হচ্ছে।