বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি আজ তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর ভালোবাসায়।
২০১২ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘ভালোবাসার রং’ ছবির মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন এই প্রতিভাবান অভিনেত্রী। এরপর ‘অগ্নি’, ‘কি দারুন দেখতে’, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘অনেক সাধের ময়না’, ‘দেশা: দ্য লিডার’, ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’, ‘অগ্নি ২’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘অনেক দামে কেনা’, এবং ব্লকবাস্টার ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মতো অসংখ্য সফল সিনেমায় অভিনয় করে তিনি স্থান করে নেন দর্শকের হৃদয়ে।
২০১৬ সালে হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘কৃষ্ণপক্ষ’ চলচ্চিত্রে ‘অরু’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছিল। আর বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ থ্রিলার ‘ঢাকা অ্যাটাক’ তাঁর ক্যারিয়ারে এনে দেয় নতুন মাত্রা।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালায় নানাবাড়িতে ১৯৯৩ সালের ২৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন মাহি। তাঁর পৈতৃক নিবাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলায়। পারিবারিক নাম শারমিন আক্তার নিপা। পিতা আবু বকর, মাতা দিলারা ইয়াসমিন।
তিনি উত্তরা হাই স্কুল ও ঢাকা সিটি কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিতে ফ্যাশন ডিজাইনিং বিভাগে অধ্যয়ন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে মাহি ২০২১ সালে গাজীপুরের ব্যবসায়ী রাকিব সরকারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ তাঁদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক পুত্র সন্তান।
রাজনীতিতেও নিজের পদচিহ্ন রেখেছেন মাহি। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে অংশ নেন এবং ৯,০০৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।
মাহি নিজেই বলেছেন,
“এখন আমার পরিচয় শুধুই শিল্পী, আমি এখন শুধুই একজন অভিনেত্রী।” দীর্ঘ ১৩ বছরের চলচ্চিত্রজীবনে মাহিয়া মাহি নিজেকে প্রমাণ করেছেন এক অনন্য শিল্পী হিসেবে। তিনি শুধু একজন নায়িকা নন—তিনি আধুনিক ঢালিউডের নারীর প্রতীক, যিনি বারবার দেখিয়েছেন যে প্রতিভা ও অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই।
শুভ জন্মদিন মাহিয়া মাহি — তোমার জীবন হোক আরও আলো, সাফল্য আর ভালোবাসায় ভরপুর।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা
