জন্মদিন: ২৭ অক্টোবর ১৯৫৪ | বয়স: ৭২ বছর
ভারতের সঙ্গীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অনুরাধা পৌডওয়াল, যিনি তাঁর সুমধুর কণ্ঠে ভক্তিমূলক গান থেকে শুরু করে রোমান্টিক বলিউড গান—সব ক্ষেত্রেই শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছেন।
অনুরাধা পৌডওয়াল ১৯৫৪ সালের ২৭ অক্টোবর কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলার কারওরে এক কঙ্কনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মনাম ছিল অলকা নাদকর্ণি। শৈশব কেটেছে মুম্বইয়ে।
তিনি বিখ্যাত সুরকার অরুণ পৌডওয়াল-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের এক পুত্র আদিত্য পৌডওয়াল (প্রয়াত) এবং এক কন্যা কবিতা পৌডওয়াল, দুজনেই সঙ্গীত জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন/আছেন।
১৯৭৩ সালে ‘অভিমান’ চলচ্চিত্রে এস. ডি. বর্মনের সুরে একটি সংস্কৃত শ্লোক গেয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন অনুরাধা পৌডওয়াল।
প্রথমদিকে তিনি রেডিও প্রোগ্রামে গান গাইতেন এবং চলচ্চিত্রে ডাবিং আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।
তাঁর প্রথম বড় সাফল্য আসে ‘হিরো’ (১৯৮৩) চলচ্চিত্রের “তু মেরা জানু হ্যায়” গানটির মাধ্যমে। গানটি মূলত লতা মঙ্গেশকরের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু লক্ষ্মীকান্ত-প্যারেলাল অনুরাধার কণ্ঠ শুনে সেটি তিনিই গাওয়ার সুযোগ পান।
১৯৮০-এর দশকে মোহাম্মদ আজিজের সঙ্গে তাঁর যুগল গান বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। এরপর তিনি নবাগত সুরকার জুটি নাদিম–শ্রবণ-এর সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তাঁদের সুরে গাওয়া গানগুলো পরে ‘আশিকি’ (১৯৯০), ‘দিল হ্যায় কে মানতা নাহি’ (১৯৯১) ও ‘সড়ক’ (১৯৯১) চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়—যা ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে ক্লাসিক হিট হয়ে আছে।
আশিকি’ ভারতীয় সংগীত ইতিহাসের তৃতীয় সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম
‘দিল হ্যায় কে মানতা নাহি’ ১৯৯১ সালের পঞ্চম সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম
সড়ক’ একই বছরের তৃতীয় সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম
এই তিনটি ছবির জন্যই অনুরাধা পৌডওয়াল জয় করেন একাধিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
পুরস্কার ও সম্মাননা:
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
৪টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার (১৯৯০–১৯৯২ টানা তিন বছরসহ)
২টি ওডিশা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার
ভারতের সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী (চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান)
ডি.ওয়াই. পাটিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সংগীতে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি (লতা মঙ্গেশকরের পর দ্বিতীয় গায়িকা)
হাউস অব কমন্স (ইংল্যান্ড)-এ সম্মাননা
জাতিসংঘে “ইন্ডিয়ান ডিভোশনাল মিউজিকের সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রদূত” উপাধি
পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ৯,০০০টি গান ও ১,৫০০-এর বেশি ভজন রেকর্ড করেছেন।
তিনি গেয়েছেন ১৩টিরও বেশি ভাষায় — হিন্দি, মারাঠি, বাংলা, ওড়িয়া, গুজরাটি, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, অসমীয়া, পাঞ্জাবি, ভোজপুরি, নেপালি ও মৈথিলি।
তিনি কাজ করেছেন কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার, মোহাম্মদ রফি, এস.পি. বালাসুব্রহ্মণ্যম, মান্না দে, কুমার শানু, উদিত নারায়ণ, সোনু নিগম প্রমুখের সঙ্গে।
তাঁর সহগায়িকাদের মধ্যে আছেন আলকা ইয়াগনিক, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, সাধনা সরগম, আশা ভোঁসলে প্রমুখ।
বলিউড থেকে ধীরে ধীরে ভজন সংগীতে প্রবেশ করেন অনুরাধা পৌডওয়াল।
গুলশন কুমারের অনুরোধে মা দুর্গার ভজন গেয়ে তিনি যে সাফল্য পান, তা তাঁকে ভক্তিমূলক গানের জগতে স্থায়ী আসন দেয়।
তাঁর শিব অমৃতবাণী, হনুমান অমৃতবাণী, গায়ত্রী মন্ত্র, ছট পূজা গীত ইত্যাদি ভজন ইউটিউবে শত শত মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে।
তিনি শুধু হিন্দু ভজনই নন, ইসলামিক, খ্রিষ্টান, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখ ধর্মীয় সংগীতেও কণ্ঠ দিয়েছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউটিউব মিউজিক চার্টে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ৩১তম শিল্পী,
এবং টানা ২৩৭ সপ্তাহ ধরে চার্টে অবস্থানকারী ভারতীয় শিল্পী হিসেবে রেকর্ড গড়েন।
তিনি সমাজসেবায় সক্রিয় এবং পরিচালনা করেন নিজস্ব সংস্থা “সূর্যোদয় ফাউন্ডেশন”।
২০২৪ সালে তিনি ভারতীয় জনতা দলে (BJP) যোগ দিয়ে রাজনীতিতেও পদার্পণ করেন।
তিনি একাধিক জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে — দ্য কপিল শর্মা শো, ইন্ডিয়ান আইডল, সা রে গা মা পা, সুপারস্টার সিঙ্গার সিজন ২ — অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
শুভ জন্মদিন অনুরাধা পৌডওয়াল!
তোমার সুমধুর কণ্ঠ, ভক্তিমূলক গান ও অমর চলচ্চিত্র সংগীত আজও কোটি শ্রোতার হৃদয়ে অনুরণিত হচ্ছে।
তুমি ভারতীয় সংগীতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা
