বর্ণিল আলো, মঞ্চ, ক্যামেরা—সবকিছুর মাঝেও যে কত অন্ধকার নিঃসঙ্গতা লুকিয়ে থাকে, তার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে আছেন হুমায়রা হিমু।
চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপন জগতের জনপ্রিয় এই মুখ অকালেই হারিয়ে গেলেন মাত্র ৩৮ বছর বয়সে।
১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্ম নেন হুমায়রা হিমু।
লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ইস্পাহানি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে ভর্তি হন ইডেন মহিলা কলেজে — এখান থেকেই তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শৈশব থেকেই তিনি সংস্কৃতিমনা ছিলেন। ক্লাস টু-তে পড়ার সময় থেকেই মঞ্চনাটকে যুক্ত হন।
স্থানীয় হাইফাই কৌতুক শিল্পগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডস নাট্যগোষ্ঠীর মাধ্যমে তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা।
পরে ঢাকায় এসে যোগ দেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনে, এরপর কাজ করেন আরও কয়েকটি নাট্যদলে।
একটি সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন।
এরপর বিভিন্ন টিভি বিজ্ঞাপনে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নির্মাতাদের নজর কাড়ে।
চা-য়ের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের পরই তাঁকে নাটকে সুযোগ দেন নির্মাতা তাহের শিপন — সেখান থেকেই টেলিভিশনের দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠা পান হিমু।
২০০৫ সালে বিনোদন অঙ্গনে তাঁর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়।
মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ (২০১১) চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় সমালোচকদের উচ্চ প্রশংসা কুড়ায়।
এই চরিত্রের মধ্য দিয়েই তিনি প্রমাণ করেন — তিনি শুধুই রূপসী নন, একজন সংবেদনশীল ও গভীর অভিনয়শিল্পী।
টেলিভিশনে হিমুর জনপ্রিয়তা ছুঁয়েছিল তুঙ্গে —
তিনি অভিনয় করেছেন একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
‘বকুলপুর’ (পরিচালনা: কায়সার আহমেদ)
‘ইষ্টিকুটুম’ (পরিচালনা: আল হারুন)
‘স্বপ্ন আড্ডা’ (পরিচালনা: সাজ্জাদ হোসেন দোদুল)
পরে তিনি চলচ্চিত্রেও নিয়মিত হতে শুরু করেন।
২০২০ সালে দেওয়ান নাজমুলের ‘তোরে কত ভালোবাসি’ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন এক জমিদারবাড়ির বউয়ের চরিত্রে — সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জীবনকাহিনিনির্ভর এ ছবিতে তাঁর অভিনয় ছিল প্রশংসনীয়।
তাঁর শেষ দিকের আরেকটি কাজ ছিল চলচ্চিত্র ‘চল যাই’।
অকাল বিদায়:
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর — মৃত্যুর মাত্র একুশ দিন পরই ছিল তাঁর জন্মদিন।
তার আগেই তিনি চলে গেলেন এক বুক নীরব অভিমানে — না বলা কষ্ট, না শোনা আর্তনাদ পেছনে ফেলে।
পুলিশ চার্জশিটে জানায়, হুমায়রা নুসরাত হিমু আত্মহত্যা করেছেন।
বকুলপুরের সেই হাসিমুখ আজো রয়ে গেছে দর্শকের মনের কোণে।
তার অভিনয়, তার প্রাণোচ্ছলতা, তার মায়াময় চোখ—সবই যেন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—
“কেন এমন হয়?”
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা
-1793613082.jpeg)