যশোরের শার্শা উপজেলার সোনানদীয়া গ্রামে জমিজমা ও স্থানীয় বিরোধের জেরে সামিদা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে লোহার শাবল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে দুই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে।
হামলায় ওই গৃহবধূর দুই হাতের ছয়টি আঙুল ভেঙে গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই নারী।
সোমবার (২৭অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে শার্শা উপজেলার সোনানদীয়া গ্রামের জনৈক তরিকুল ইসলামের বাড়ির দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মো. তোহিদুর রহমান (৫২) শার্শা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪০) ও তার ছেলে উজ্জল হোসেনের (২৩) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী। জমিজমা ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে সামিদা বেগম বাড়ির পাশের সোনানদীয়া বাওড়সংলগ্ন নিজেদের জমি থেকে ধইঞ্চা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
পথে তরিকুল ইসলামের বাড়ির দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রতিবাদ করলে জাহাঙ্গীর আলম তার হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়ে সামিদা বেগমের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ডান হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে ডান হাতের চারটি আঙুল ভেঙে গুরুতর জখম হয়।
পরে আবারও মাথায় শাবল দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করলে বাম হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে বাম হাতের আরও দুটি আঙুল ভেঙে যায়। এ সময় জাহাঙ্গীরের ছেলে উজ্জল হোসেন বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সামিদা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে লোহার শাবল ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার পিঠ, কোমর ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তজমাট নীলাফোলা জখম হয়। মারধরের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃত ভেবে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে চিৎকার ও শোরগোল শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস, লতা, আলমসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অচেতন অবস্থায় সামিদা বেগমকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে তার স্বামী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামী তোহিদুর রহমানের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার স্ত্রীর ওপর পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। স্ত্রীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ইউনুস আলী বিশ্বাস বলেন,জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সামিদা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে লোহার শাবল দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করে। পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, পাল্টা অভিযোগে সোনানদিয়া গ্রামের আসাদুজ্জামান ও রনি আহম্মেদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় ওই দুজন বেনাপোলে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।
সোনানদিয়া গ্রামের মিন্টু রহমান বলেন, “সামিদা বেগম আমার চাচি। জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর আহত করেছেন। হামলার সময় সামিদাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়। এতে তার মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তবে এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্রের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক জানান,উক্ত ঘটনার পরিপেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে।
আশরাফুল ইসলাম
বেনাপোল,যশোর।
