ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগের দিন উদ্ধার হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর শিক্ষক বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে জব্দকৃত ৭৪ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় পরিধেয় কাপড় আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ নীলফামারী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বেলাল উদ্দিন প্রধান। নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে যাত্রীদের দেহ ও লাগেজ পরীক্ষা চলাকালে তার কাছে অস্বাভাবিক পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। এ সময় নিরাপত্তা কর্মীদের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে টাকার উৎস ও বহনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে যৌথ বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।
আটককৃত বেলাল উদ্দিন প্রধান ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হাজীপাড়া এলাকার মৃত দবিরুল ইসলামের পুত্র। তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ তার ব্যবসার বৈধ টাকা এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ঢাকার বিমানবন্দরে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম বলেন, “উদ্ধার হওয়া ৭৪ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নীলফামারী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ আর বাদশা
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
