সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর-সদরের একাংশ) আসনে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর সংসদ নির্বাচনে এই প্রথম বিজয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল।
কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা এ আসন আসন থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
যদিও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হন।
এবারের নির্বাচনে এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম। তিনি মাত্র সাত হাজার ৭৯৮ ভোট কম পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই প্রথম আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক দখলে নিয়ে বিএনপি জয় লাভ করার মাধ্যমে বিএনপি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ময়দান পাকাপোক্ত করার সুযোগ পাবেন বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।
অপরদিকে, এই আসনে এর আগে একাধিকবার জামায়াত নির্বাচন করলেও জামানত হারাতে হয়েছে তাদের।
স্থানীয়ভাবে আরও জানা যায়, এই আসনে সাবেক আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী ক্যাপটেন এম. মুনসুর আলী, তার ছেলে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম, এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর দৌহিত্র নাসিমপুত্র তানভীর শাকিল জয় এই আসনে একাধিকবার নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ দেশ স্বাধীনের পর এ পর্যন্ত কাজিপুর আসনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর পরিবারের সদস্যরা শাসন করেছে এই আসনে।
সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনটি বরাবরই ছিল আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য। বিএনপির জয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের শক্তি দুর্বল করে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে সহায়ক হবে বলে বিজয়ী বিএনপি নেতা সেলিম রেজা মনে করেন।
কাজীপুরের এই আসনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এর আগে বিএনপি থেকে অন্যান্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও এমপি পদে বিএনপির এই প্রথম বিজয় ভবিষ্যৎ বিএনপিকে শক্তিশালী করবে বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেন।
এ আসনে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে শফিকুল ইসলাম নির্বাচিত হন। তাছাড়া ১৯৮৬, ১৯৯১, ২০০১, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম, ১৯৯৬ সালের উপ-নির্বাচনে বড় ছেলে মোহাম্মদ সেলিম এবং ২০০৮, ২০২০ সালের উপ-নির্বাচন ও ২০২৪ সালে মোহাম্মদ নাসিমপুত্র প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জয় লাভ করেন। আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
-69a16c5c93917-1772187330.jpg)