কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ধরনের নিয়মনীতি বা বিল্ডিং কোড না মেনে রাস্তা দখল করে রড, সিমেন্ট, বালি ও ইটের স্তূপ ফেলে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দিনের বেলাতেই রাস্তার উপর ইট ভাঙার মেশিন বসিয়ে কাজ করায় জনসাধারণকে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া ল কলেজ ও সনো টাওয়ার সংলগ্ন সড়কে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অত্যন্ত ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুলগামী শিশু, তাদের অভিভাবক, রোগী ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থী চলাচল করেন। অথচ ওই সড়কের পাশেই ুস্বপ্নছোঁয়া আবাসন প্রকল্প নামে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে।
আজ সকাল প্রায় ১০টার দিকে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করে ভবনের প্রায় দশতলা ওপর থেকে ঢালাই করা পাথরের ৮ থেকে ১০টি খণ্ড নিচে পড়ে। অল্পের জন্য তিনি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগেও একই স্থানে আরেক পথচারী এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তবে সেসময়ও আল্লাহর রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ুস্বপ্নছোঁয়া আবাসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গায়ের জোরে অবৈধভাবে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তারা কোনো গুরুত্ব দেয় না। রাস্তার পাশ দিয়ে চলাচলের সময় ভবন থেকে পানি পড়ে পথচারীদের ভোগান্তিতে ফেলছে। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে মলের ট্যাংকি নির্মাণ করায় সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং মলমিশ্রিত পানি রাস্তায় এসে পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে কথা হলে কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব মোঃ মেহেদি হাসান জানান, ুবিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
