বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দস্যু আতঙ্কে শুরু সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম, উদ্বেগে মৌয়ালরা

দস্যু আতঙ্কে শুরু সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম, উদ্বেগে মৌয়ালরা

দস্যু আতঙ্কে শুরু সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম, উদ্বেগে মৌয়ালরা

আবু জাফর, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন-এর সাতক্ষীরা রেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম।
বুধবার (১ এপ্রিল) শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিস চত্বরে সকাল সাড়ে ১০টায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
মৌসুম শুরু হলেও স্বস্তিতে নেই মৌয়ালরা। বনের ভেতরে জলদস্যুদের পুনরায় তৎপরতার খবরে তাদের মাঝে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা বনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মৌয়ালের সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিটি মৌয়াল দলকে ১৪ দিনের জন্য পারমিট দেওয়া হবে, যেখানে মাথাপিছু ৫০ কেজি মধু ও ১৫ কেজি মোম সংগ্রহের অনুমতি থাকবে।
এদিকে মৌয়ালদের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। নৌঘাটে নৌকা প্রস্তুত করা ও প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ। তবে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দস্যু তৎপরতার খবরে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকটি জলদস্যু দল পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মৌয়াল দলনেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি ১২ সদস্যের দল নিয়ে বনে যাচ্ছেন। তবে দস্যু আতঙ্ক এবার বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মৌয়াল মো. শাহাজান সরদার বলেন, গত বছর বাঘের মুখোমুখি হয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছিলেন। তার ভাষায়, “মধুর চাক খোঁজা আর বাঘের মুখোমুখি হওয়া— দুটোই সমান ঝুঁকিপূর্ণ।”
মৌয়াল কামরুল ইসলাম বলেন, “এবার শুধু বাঘ নয়, দস্যুদের ভয় নিয়েও বনে যেতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৌয়াল অভিযোগ করেন, বনের ভেতরে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করছে। একদিকে মহাজনের ঋণের চাপ, অন্যদিকে দস্যুদের ভয়— এই দ্বিমুখী চাপে অনেকেই এবার বনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা পুনরায় সক্রিয় হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না এলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এছাড়া কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
প্রাকৃতিক ও ভেজালমুক্ত হওয়ায় সুন্দরবনের মধুর চাহিদা দেশজুড়ে ব্যাপক। ফলে এ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।