মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারির পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। গতকাল একদিনেই ধাতু দুটির দাম কমেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৭ ও ৫ শতাংশের বেশি। খবর আনাদোলু ও রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম গতকাল ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৪ হাজার ৬৬২ ডলার ৫৯ সেন্টে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৪ হাজার ৬৪৯ ডলার। এটিও আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম।
এদিকে স্পট মার্কেটে রুপার দাম গতকাল ৫ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৭১ ডলার ২৬ সেন্টে। লেনদেনের একপর্যায়ে মূল্যবান ধাতুটির দামের পতনের ধারা ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি টেলিভিশন ভাষণকে কেন্দ্র করেই বাজারে এ অস্থিরতা শুরু হয়। ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ‹চরম আঘাত› হানার হুমকি দেয়ার পর পরই বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতু থেকে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে শুরু করেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণত জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি হয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) নিকট ভবিষ্যতে সুদহার কমাবে না—এমন একটি ধারণা বাজারে জোরালো হয়েছে। সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রুপা বা স্বর্ণের চেয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলার ও ট্রেজারি বন্ড বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ফলে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ব্যাপকভাবে পড়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষক বার্নার্ড দাহদাহ জানান, যুদ্ধের শুরু থেকেই জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে স্বর্ণ ও রুপার দামের একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি মানেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমাবে না বরং তা অপরিবর্তিত রাখবে। এ আশঙ্কাই সরাসরি রুপার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা আগের ২৫ শতাংশ থেকে কমে এখন ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও গতকাল কমেছে। এ সময় প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে নেমেছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪৬৩ ডলারে।
বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্য সংকট মেটানোর যে আশা করেছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণে তা আরো ফিকে হয়ে এসেছে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদহারের আশঙ্কাই রুপার বাজারে এ বড় ধসের মূল কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান দরপতন সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার কারণে রুপা আবারো তার আগের অবস্থানে ফিরতে পারে।
