ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনার প্রধান ভিত্তি হবে তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) তেহরানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।
- আলোচনার স্থান ও সময়: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
- ইরানের অবস্থান: তাখত-রাভানচি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চায় না যা শত্রুকে পুনরায় সশস্ত্র হওয়ার বা নতুন করে হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে। তিনি আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তার গ্যারান্টি দাবি করেছেন।
১০ দফা পরিকল্পনার প্রধান দিকগুলো:
ইরানের এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সকল নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া।
- সামরিক উপস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
- হরমুজ প্রণালি: এই কৌশলগত জলপথের ওপর ইরানের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
- পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে স্বীকৃতি প্রদান।
- ক্ষতিপূরণ ও সম্পদ: যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
- নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব: যেকোনো সমঝোতাকে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন গ্রহণ।
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই ১০ দফা পরিকল্পনাকে আলোচনার জন্য একটি "কার্যকর ভিত্তি" (Workable basis) হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এই শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তাও দেখা দিয়েছে।
