ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশবিধ্বংসী এ কর্মকাণ্ডের দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত ৫টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বায়েক ইউনিয়নের মাদলা গ্রামে অবস্থিত “পিপল পোল্ট্রি ফার্ম” নামক একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের অগোচরে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ফ্যাক্টরি নির্মাণ কাজ চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে শুক্রবার সকালে সেখানে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল ইসলামের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল করিম। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়ায় পিপল পোল্ট্রি ফার্মের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে থাকা এক ট্রাক্টর হেল্পারকে ৭ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া মাটি
পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ৫টি ট্রাক্টর জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল ইসলাম জানান, পাহাড় কাটা দেশের প্রচলিত আইনে সম্পূর্ণ দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং জনবসতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে কসবা উপজেলার প্রাকৃতিক পাহাড় ও বনাঞ্চল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
শাহ মুহাম্মদ ফুরকানুল ইসলাম