শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কোনো দলের পক্ষ না নিলে সব দলের গালি শুনবেন : জয়

কোনো দলের পক্ষ না নিলে সব দলের গালি শুনবেন : জয়

কোনো দলের পক্ষ না নিলে সব দলের গালি শুনবেন : জয়

আলোচিত অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়। তার এই পরিচয় এখন খানিকটা আড়ালেই পড়ে গেছে। কারণ বিতর্কিত সঞ্চালক হিসেবে লাইমলাইটে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণ সরব জয়। এই মাধ্যমে সমকালীন নানা বিষয় নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে।  

জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে প্রতিনিয়ত সমালোচনা হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই অভিনেতা। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এ পোস্টে কথা বলেছেন; যা নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।  

শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, “এদেশে বিএনপি করলে আওয়ামী লীগ, জামাত এবং এনসিপির গালি শুনবেন। আওয়ামী লীগ করলে বিএনপি, জামাত এবং এনসিপির গালি শুনবেন। আর কোনো দলের পক্ষ না নিলে সব দলের গালি শুনবেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে বসবাসের পূর্ব শর্ত হচ্ছে ইনিয়েবিনিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা নাই। আপনাকে আপনার অবস্থান ক্লিয়ার করতে হবে। ক্লিয়ার না করলে দেশ আপনাকে বোঝা হিসেবে সব জায়গা থেকে ক্লিয়ার করে দিবে। আপনার আপন বলতে কেউ থাকবে না। আপনার দায়িত্ব কেউ নেবে না। আর নিজের খেয়ে নিজের পড়ে রাজনৈতিক অবস্থান ক্লিয়ার করলেও আপনি বিপদের মধ্যে থাকবেন। কখনো ভিন্ন মত আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।”  

বাংলাদেশ ও উন্নত দেশের তুলনামূলক আলোচনা করে শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, “বাংলাদেশে কি আসলে কোনো নিরপেক্ষ মানুষ আছে? যে বা যিনি কোনো রাজনৈতিক দলের না। যে শুধু বাংলাদেশের? কিন্তু উন্নত দেশে উন্নত সমাজে একটা মানুষের জীবন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, সে যদি ইচ্ছে করে সে নিরপেক্ষ থাকবে পৃথিবীর সব মানবতা এবং মানবাধিকার তার পক্ষে দাঁড়িয়ে বলবে, তাকে তা থাকতে দেওয়া উচিত। ধর্মের ব্যাপারে বহুত সংঘাতের পর শত শত বছরের সমঝোতার পর সারা বিশ্বে আমরা একমত হয়েছি যে, যার ধর্ম পালন করবে কেউ তাকে বিরক্ত করবে না। কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রে আমরা কখনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারি নাই। এজন্য রাজনীতিবিদ এবং রাজনীতির অপব্যবহারই দায়ী।”

বাংলাদেশে থাকতে হলে রাজনীতি করা বাধ্যতামূলক বলে মনে করেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। তার ভাষায়—“আপনি যার পক্ষই নিবেন অন্যেরা আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। এদেশে থাকতে হলে, বাঁচতে হলে রাজনীতি করতেই হবে। আবার যারা যখন যেই সরকার থাকে, তখন সেই সরকারের পক্ষে থাকে, তাদের আরো বিপদ। কারণ বিরোধী দলের শত্রু দুজন থাকলে সরকারের শত্রু থাকে ২০০ জন। সরকার চলে যাওয়ার পর আপনি চাকরি করলে হয়ে যাবেন ওএসডি, ব্যবসা করলে ব্যবসা থাকবে না, তারপরে যদি সরকারের সাথে কোনোরকম অন্য গভীর সংযোগ থাকে, তাহলে আপনাকে যেতে হবে জেলে। সব সরকারের আমলে এই ঘটনা। কি একটা মুশকিল!”

এ দেশে বিনা পয়সায় ‘দোসর’ তকমা পাওয়া যায়। এ তথ্য স্মরণ করে শাহরিয়ার নাজিম জয় বলেন, “সরকারের পতন হলে আপনি যত বড় বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ কিংবা মূল্যবান হন, আপনার সব পরিচয় ছাপিয়ে একটি পরিচয় থেকে যাবে, তা হচ্ছে— দোসর। সারা জীবন কষ্ট করে আপনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর কিংবা শিল্পী যাই হোন না কেন, আপনাকে এই দেশ কখনো না কখনো একটি পরিচয় বিনা পয়সায় দিয়ে দিবেন, সেই পরিচয়ের নাম ‘দোসর’। এই পরিচয় পেতে এক টাকাও খরচ হয় না। তবে সব ‘দোসর’ যে নির্দোষ তা আমি বলব না। তবে অনেকেই অল্প দোষে অধিক পরিচিত ‘দোসর’। সব আমলেই আবার অনেকেই অপরিচিত বা অল্প পরিচিত হওয়ার কারণে অনেক বড় ‘দোসর’ হয়েও বহাল ইমেজে সম্মানের সাথে চলে। জীবন খালি উন্নত হয়। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

শাহরিয়ার নাজিম জয়ের এসব ভাবনার সঙ্গে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ সহমত পোষণ করে মন্তব্য করেছেন। আবার কেউ কেউ তার সমালোচনা করেও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন।