চীন বলতে আমরা আধুনিক সুউচ্চ অট্টালিকা, বিলাসবহুল বুলেট ট্রেন, উন্নত প্রযুক্তির দেশ হিসেবে জেনে থাকি। দেশটির এক অন্যরকম রূপ এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। চীনের আনাচে-কানাচে এমন কিছু বিশেষ ট্রেন চলে যেখানে যাত্রীদের সাথে যাত্রী হিসেবে থাকে ছাগল, শুকর, মুরগি আর হাঁস। দেশটির ‘ধীরগতি ট্রেন’ বা পাবলিক ওয়েলফেয়ার ট্রেনগুলো বছরের পর বছর এই দরকারি সেবা দিয়ে আসছে।
চীনের গ্রামাঞ্চলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করতে ৩৮টি শহরকে যুক্ত করতে ধীর গতির জনসেবামূলক ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের ভিডিও দেখা যাচ্ছে, ট্রেনের সিটের মাঝ দিয়ে যাতায়াতের জায়গা দিয়ে সারি সারি ছাগল, শূকর হেঁটে যাচ্ছে। তাছাড়া সিটগুলো যাত্রীদের ভ্রমন করতেও দেখা গেছে।
সম্প্রতি একজন ব্লগার ‘কয়েকজন মেষপালকের তাদের ভেড়া নিয়ে ট্রেনে ওঠার এক অসাধারণ দৃশ্য’ স্যোশাল প্লাটফর্মে পোস্ট করে।
যা মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিচুয়ান প্রদেশ এবং লিয়াংশান ই স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্যবাহী ধীরগতির ট্রেন চালু রয়েছে। ৩৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে এই ট্রেন ৩৮টি শহরকে সংযুক্ত করে এবং পার্শ্ববর্তী ৯৭টি জনপদে পরিষেবা প্রদান করে।
ট্রেনের টিকেটের দাম খুব সস্তা।
যা কয়েক দশক পরেও টিকিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পুরো যাত্রার জন্য ভাড়া ২৬.৫ ইউয়ান এবং সর্বনিম্ন ভাড়া মাত্র ২ (৩০ সেন্ট ডলার) ইউয়ান। এই সাশ্রয়ী পরিসেবাটি বাজার করা, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং স্কুলে যাতায়াতের মতো দৈনন্দিন ভ্রমণকে সহজ করে তুলেছে।
চলতি বছর পর্যন্ত এসব অঞ্চল জুড়ে ৮১টিরও বেশি এই ধরনের ধীরগতির ট্রেন রুট চালু রয়েছে।
দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক যখন বিশ্বজুড়ে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই ধীরগতির ট্রেনগুলো নিশ্চিত করছে যাতে উন্নয়নের সুফল দেশের প্রান্তিক মানুষও পায়।
আধুনিকতার জোয়ারে কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই সরকার এই লোকসানি ট্রেনগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষক আর খামারিদের জন্য এই ট্রেনগুলো এখন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং তাদের জীবন-জীবিকার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
