মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কুষ্টিয়ায় থানাপাড়া (৬ রাস্তা) জামে মসজিদে এজিএমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় থানাপাড়া (৬ রাস্তা) জামে মসজিদে এজিএমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় থানাপাড়া (৬ রাস্তা) জামে মসজিদে এজিএমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ

কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া (৬ রাস্তা) জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)কে কেন্দ্র করে এক দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, এজিএম সভায় মসজিদের ইমাম সাহেবের থাকার ঘর পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান কক্ষটি মাসিক মিটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে এবং ইমাম সাহেবকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি কক্ষে স্থানান্তরের কথা বলা হয়। এ সময় উপস্থিত সাধারণ সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন—নতুন কক্ষে অবস্থান করলে ইমাম সাহেবের টয়লেট ব্যবহারের ব্যবস্থা কীভাবে হবে?

জবাবে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি জানান, ইমাম সাহেব সাধারণ সবার ব্যবহৃত টয়লেটই ব্যবহার করবেন। এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান এবং বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।

এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এক সদস্য প্রতিবাদ জানালে তাকে ধাক্কা দিয়ে সভা থেকে বের করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটে। শুধু তাই নয়, প্রতিবাদকারী সদস্যকে সদস্যপদ বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পুনরায় অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদের মতো ধর্মীয় স্থানে এমন ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসী গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। তবে পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তিনি বিষয়টি আর এগিয়ে নিতে পারেননি বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—আত্মরক্ষার জন্য অনুমোদিত অস্ত্র কি এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে? একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র বহনের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? এবং মত প্রকাশের অধিকার কি এভাবেই দমন করা হবে?

সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাই নষ্ট করে না, বরং সমাজে বিভাজন ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী আশা করছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মীর রকিবুল ইসলাম