মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে ১২ আমল করবেন

জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে ১২ আমল করবেন

জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে যে ১২ আমল করবেন

জীবন যখন অগোছালো হয়ে যায়, তখন শুধু সময়ের হিসাবই এলোমেলো হয় না—ধীরে ধীরে ইবাদত, কাজ, পরিবার, দায়িত্ববোধ এমনকি মনের প্রশান্তিও ব্যাহত হতে থাকে। কখন ঘুমাব, কখন উঠব, কখন কাজ করব, কখন বিশ্রাম নেব—এসবের কোনো নির্দিষ্টতা না থাকলে মানুষ অনেক সময় নিজের কাছেই নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

অথচ ইসলাম ইবাদত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজ—সবকিছুর মধ্যেই শৃঙ্খলা, ভারসাম্য ও নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দিয়েছে। তাই জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে মুমিনের দৈনন্দিনের আমলগুলো জানা জরুরি। সেগুলো হলো- 

 

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের কেন্দ্র বানানো : জীবনকে সুশৃঙ্খল করার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। একজন মুসলিমের দিনকে মূলত পাঁচটি নির্দিষ্ট সময়ে ভাগ করে দেয় নামাজ।ফলে সময়ের প্রতি সচেতনতা তৈরি হয় এবং জীবনে একটি স্বাভাবিক ছন্দ আসে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের ওপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)

২. সকাল শুরু করুন আল্লাহর স্মরণ দিয়ে : দিনের শুরুটা মানুষের পুরো দিনের ওপর প্রভাব ফেলে। ঘুম থেকে উঠে অযথা মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য ব্যস্ততায় না গিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, নামাজ, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে দিন শুরু করা উচিত।আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

৩. প্রতিদিন অল্প হলেও কোরআন পড়ুন : অনেকেই একদিন অনেক কোরআন পড়ার পরিকল্পনা করেন, কিন্তু কয়েক দিন পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। ইসলামের শিক্ষা হলো—অল্প হোক, কিন্তু নিয়মিত হোক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, যা নিয়মিত করা হয়—যদিও তা অল্প হয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৬৪-৬৪৬৫।

৪. দিনের কাজের পরিকল্পনা করুন : ইসলাম মানুষকে দায়িত্বশীল হতে শেখায়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে থেকে নির্ধারণ করলে সময় অপচয় কমে যায়। ঘুম, নামাজ, পড়াশোনা, কর্মস্থল, পরিবার, বিশ্রাম—প্রতিটির জন্য একটি মোটামুটি সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।’ (সুরা : আসর, আয়াত : ১-২)

৫. অপ্রয়োজনীয় কাজ ও কথাবার্তা কমিয়ে দিন : জীবন অগোছালো হওয়ার অন্যতম কারণ হলো অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনর্থক ভিডিও দেখা, অপ্রয়োজনীয় আড্ডা কিংবা অন্যের বিষয়ে অতিরিক্ত আলোচনা—এসব মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। সফল মুমিনদের গুণ বর্ণনা করতে আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৩)

৬. ঘুম ও জাগরণের সময় ঠিক করুন : অতিরিক্ত রাত জাগা এবং অনিয়মিত ঘুম মানুষের কর্মক্ষমতা ও ইবাদতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সম্ভব হলে রাতে যথাসময়ে ঘুমানো এবং ফজরের আগে বা ফজরের সময় জাগার অভ্যাস করা উচিত। রাতকে পুরোপুরি জেগে থেকে দিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ নষ্ট করার পরিবর্তে শরীরের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া এবং দিনের সময়কে কাজে লাগানো ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের অংশ।

৭. ছোট ছোট আমল দিয়ে নিয়ম তৈরি করুন : নিজের ওপর একসঙ্গে অনেক আমল চাপিয়ে দিয়ে কয়েক দিন পর সব ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে অল্প অল্প করে স্থায়ী অভ্যাস গড়ে তোলা উত্তম। যেমন— প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াত, সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির, প্রতিদিন কিছু ইস্তিগফার, নিয়মিত দরুদ পাঠ, সামর্থ্য অনুযায়ী নফল নামাজ, প্রতিদিন কিছু সদকা, ঘুমের আগে নিজের আমলের হিসাব নেওয়া ইত্যাদী। 

৮. প্রতিদিন আত্মসমালোচনা করুন : দিন শেষে কয়েক মিনিট নিজের কাছে হিসাব নেওয়া অত্যন্ত উপকারী। আজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কেমন হয়েছে? সময় কোথায় নষ্ট করেছি? কারো সঙ্গে অন্যায় করেছি কি? আজ কী ভালো কাজ করেছি? আগামীকাল কোন ভুলটি সংশোধন করব? আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে, সে আগামীকালের জন্য কী পাঠিয়েছে।’
(সুরা : হাশর, আয়াত : ১৮)

৯. তওবা ও ইস্তিগফারকে জীবনের অংশ বানান : গুনাহ মানুষের অন্তরকে দুর্বল করে এবং জীবনের শৃঙ্খলাও নষ্ট করতে পারে। তাই ভুল হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২২২)

১০. ভালো মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করুন : মানুষের চরিত্র ও অভ্যাসের ওপর সঙ্গের গভীর প্রভাব রয়েছে। যারা সময়ের মূল্য বোঝে, নামাজের ব্যাপারে সচেতন, দায়িত্বশীল ও আল্লাহভীরু—তাদের সঙ্গে থাকলে নিজের মধ্যেও ভালো অভ্যাস তৈরি হয়। অন্যদিকে অলসতা, অনর্থক বিনোদন, গুনাহ ও সময় অপচয়ে অভ্যস্ত মানুষের সঙ্গ জীবনকে আরও অগোছালো করে দিতে পারে।

১১. কাজের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখুন : শৃঙ্খলা মানে সারাক্ষণ কাজ করা নয়। ইসলাম ইবাদত, কাজ, পরিবার ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য শেখায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা হলো—সাধ্যের বাইরে নিজের ওপর আমলের বোঝা চাপিয়ে না নেওয়া। তাই এমন রুটিন তৈরি করা উচিত, যা দীর্ঘদিন ধরে পালন করা সম্ভব। একদিনের কঠিন রুটিনের চেয়ে প্রতিদিনের বাস্তবসম্মত রুটিন অনেক বেশি কার্যকর।

১২. প্রতিদিন একটি ভালো কাজের লক্ষ্য রাখুন : জীবনে বড় পরিবর্তন অনেক সময় ছোট ছোট ভালো অভ্যাস থেকেই আসে। প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করার সংকল্প করা যেতে পারে—কাউকে সাহায্য করা, সদকা করা, বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়া, কারো কষ্ট দূর করা, কোনো গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রাখা কিংবা কাউকে ভালো কথা বলা। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরিবর্তনের জন্য বড় কোনো দিনের অপেক্ষা না করা। আজ থেকেই ছোট একটি ভালো অভ্যাস শুরু করা এবং সেটিকে নিয়মিত করে তোলা। কারণ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমলগুলোর অন্যতম হলো সেই আমল, যা অল্প হলেও নিয়মিত করা হয়।  (সহিহ বুখারি)