গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি এলাকায় নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে বাঁশের তৈরি একটি কালভার্ট (সাঁকো)। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কৃষক শিক্ষার্থীরা সহ নানা পেশার মানুষ।
নদীপারের মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটিই ছিল প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। সাম্প্রতিক টানা ভারি বর্ষণে নদীর পানির স্রোতের তোড়ে সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে কেউ অসুস্থ হলে জরুরি সেবাও নিতেও পারছে না এলাকাবাসী।
এদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় স্কুল নিয়মিত যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা, এতে তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকরাও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল সালাম বলেন, “সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। নদী পার হওয়া এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।”
এদিকে স্থানীয় কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে। উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার আগেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বাজারে ফসল নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে নৌকা ব্যবহার করার চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় শিক্ষা, কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও মারাত্মক সংকটে পড়বে।
নদীর স্রোতে ভেসে গেছে শুধু একটি সাঁকো নয়—সঙ্গে ভেসে যাচ্ছে হাজারো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও।
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি: মাহিদ হাসান শাহিন
